গুগল কী সত্যিই আপনার কথা রেকর্ড করছে?
অনেক সময় নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ফোনে কিংবা ফোনের সামনে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই সেই সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে গুগল কি আমাদের সব কথা রেকর্ড করছে? সরাসরি উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়। এর পেছনে মূলত কাজ করছে গুগলের ‘ভয়েস অ্যান্ড অডিও অ্যাক্টিভিটি’ ফিচার।
গুগলের ভয়েস অডিও ফিচার কী?
গুগলের এই ফিচারটি মূলত আপনার ভয়েস কমান্ডের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য তৈরি। যখনই আপনি ওকে গুগল বা হেই গুগল বলেন, অথবা ভয়েস সার্চ ব্যবহার করেন, তখন সেই কমান্ডটি গুগল সেভ করে রাখে।
এর উদ্দেশ্য হলো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও নির্ভুলভাবে কাজ করানো এবং আপনাকে আরও উন্নত সেবা প্রদান করা।
গুগল কেবল তখনই অডিও রেকর্ড করে, যখন আপনি মাইক্রোফোন ব্যবহার বা ভয়েস কমান্ড দেন। তবে মাঝে মাঝে ফোন ভুলবশত সক্রিয় হয়ে গেলে কিছু কথাই রেকর্ড হতে পারে। এ কারণেই অনেকের ধারণা তৈরি হয় যে গুগল সবসময় আমাদের কথোপকথন নজরে রাখছে।
চাইলে নিজের ভয়েস রেকর্ডিং দেখতে পারবেন। আপনি সহজেই জানতে পারেন গুগল কোন কোন কথাগুলো সেভ করেছে। এজন্য-
১. আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
২. এবার ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি সেকশনে গিয়ে মাই অ্যাক্টিভিটি অপশনে ক্লিক করুন।
৩. সেখানে ভয়েস অ্যান্ড অডিও অ্যাক্টিভিটি ফিল্টার করে রেকর্ডিংগুলো দেখতে পারেন, তারিখ ও সময়সহ। প্লে বাটন ক্লিক করে শোনাও সম্ভব।
এবার রেকর্ডিং ডিলিট বা বন্ধ করার উপায় জেনে নিন। চাইলে রেকর্ডিং একটি একটি করে কিংবা সব একসঙ্গে মুছে ফেলতে পারবেন। এমনকি অটো-ডিলিট: নির্দিষ্ট সময় পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ডিং মুছে ফেলার সেটিং চালু রাখা যায়। ভয়েস অ্যান্ড অডিও অ্যাক্টিভিটি অপশন আনচেক করলে গুগল আর আপনার ভয়েস সেভ করবে না।
আপনার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের পারমিশন বন্ধ করুন। যেসব অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করে না, সেগুলোর অনুমতি বন্ধ করে রাখুন। ‘হেই গুগল’ বন্ধ রাখুন: যদি আপনি নিয়মিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার না করেন, তবে ফোনের সেটিংস থেকে এটি বন্ধ করুন।
নিয়মিত নজর রাখুন, মাঝে মাঝে গুগল অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি লগ চেক করুন। এই সহজ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে আপনার ভয়েস ডাটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং ডিজিটাল প্রাইভেসি অনেকটা রক্ষা করা যায়।
এমকে/এসএন

