© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমিরাতের দলে অর্ধেক ভারতীয়, অর্ধেক পাকিস্তানি

শেয়ার করুন:
আমিরাতের দলে অর্ধেক ভারতীয়, অর্ধেক পাকিস্তানি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৫ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ অনেক পুরোনো। তবে বিগত দেড় যুগ ধরে কেবল ক্রিকেটীয় বিষয়ই নয়, তাদের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রেশও ২২ গজে হানা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বৈরিতা পৌঁছেছে মুখোমুখি ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পর্যন্ত। যদিও শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে সমাধান এসেছে। সিদ্ধান্ত বদলে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি লড়বে পাকিস্তান। দেশ দুটির প্রায় সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত দলে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। যদিও সেখানে এখনও কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি আমিরাতের। আজ (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে আরব আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিমের সামনে তোলা হয় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার রেষারেষির প্রসঙ্গ। কারণ তার দলে ক্রিকেটারদের মধ্যে অর্ধেক ভারতীয় ও বাকি অর্ধেক পাকিস্তানি। তবে তাদের জাতীয়তা ‘আরব আমিরাত’ এবং ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতা তাদের ছুঁতে পারে না বলে জানালেন ওয়াসিম।



আমিরাতের বিশ্বকাপ দলে থাকা ১৫ জনের মধ্যে আটজন খেলোয়াড় পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন বা তাঁদের শিকড় পাকিস্তানে। বাকিরা ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিংবা ভারতের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। দলের কোচিং স্টাফেও রয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব- প্রধান কোচ ভারতের অভিজ্ঞ লালচাঁদ রাজপুত এবং তার সহকারী সাবেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইয়াসির আরাফাত। বিশ্বকাপের আলোচনা ছিল একদিকে, আর বড় একটি অংশজুড়ে ছিল পাক-ভারত বয়কট প্রসঙ্গ। তবে সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়েনি আমিরাতের ড্রেসিংরুমে।

দলটির অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সম্প্রীতি বিরাজ করছে আমিরাত দলে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে তিনি বলেন, ‘এই দলে ভারত বা পাকিস্তান বলে কোনো বিভাজন নেই। আমরা সবাই ইউএই’র প্রতিনিধিত্ব করছি এবং তা নিয়ে গর্বিত। আমরা একসঙ্গে খেলি, একসঙ্গে খাই এবং অনেক সময়ই একত্রে কাটাই। আমাদের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান বলে কিছু নেই। আমরা প্রস্তুত হয়ে এসেছি এবং কয়েকটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।’

এর আগে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ এশিয়া কাপেও। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের আয়োজক ছিল আরব আমিরাত। ওই সময় ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা হাত না মেলানো, চ্যাম্পিয়ন হয়ে পিসিবি ও এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ভারতের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মতো ঘটনা ঘটে। এশিয়া কাপ চলাকালে ওয়াসিমকে ওই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমরা এসব (ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা) নিয়ে কথা বলি না। আমরা একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলি। আমরা এখানে একটি পরিবারের মতো। এখানে কোনো ভারতীয় বা পাকিস্তানি নেই। আমরা ইউএই দলের হয়ে খেলি- একটি পরিবার হিসেবে খেলি ও থাকি।’

অবশ্য কেবল আমিরাতই নয়, বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের স্কোয়াডেও ভারত ও পাকিস্তান বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার রয়েছেন। ওমান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস দলে আছেন ভারত ও পাকিস্তানের অভিবাসী খেলোয়াড়। কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের বেশিরভাগ খেলোয়াড় দ্বৈত নাগরিকত্ব বা স্বাগতিক দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অনেকেই এখনও নিজেদের মূল দেশের পাসপোর্ট বহন করছেন।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন