পে-স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে তারেক রহমানের বার্তা
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৪ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে উপদেষ্টারা জানিয়েছেন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার। এ অবস্থায় নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তারেক রহমান।
গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন (পে-কমিশন)।
প্রতিবেদনে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার কথা জানানো হয়। বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশে কমিটি গঠন করেছে সরকার। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, নির্বাচিত সরকার চাইলে পে কমিশনের সুপারিশ করা পে-স্কেল বাস্তবায়ন বা বাতিল যে কোনোটাই করতে পারবে।
অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না করলেও পরবর্তী সরকারের পক্ষে তা বাস্তবায়নের পথ সহজ করে যাচ্ছেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
এ অবস্থায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলেছি জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।
বেকার সমস্যা সমাধানে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক বীমা পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কয়েকটি সেক্টরকে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান তৈরির উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে।’
পিএ/টিকে