© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পাইনি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

শেয়ার করুন:
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পাইনি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৭ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় নগরীর সদর রোডস্থ আশ্বিনী কুমার হলে নির্বাচন কেন্দ্রিক সামগ্রিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। অভিযোগগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ডিসি-এসপি তাদের কৃতকর্মের দায়ে চাকরি হারিয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। আমরা নির্বাচিত না হলেও পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সঙ্গে একমত হলেও ওপর মহলের গড়িমসির কারণে কোনো অভিযান হচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকার মুলাদী উপজেলার নদীবেষ্টিত ৩টি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শফিপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নে একটি বিশেষ দলের ক্যাডাররা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। কেন্দ্রে যেতে দেবে না কিংবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছে। এসব এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে এবং তাদের পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ গণ্ডগোল করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সেটা যদি আমার লোকও হয় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের প্রশ্নে কাউকে ছাড় নেই। এখনও অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অন্য প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ভোটারদের মানুষ নয়, ছাগল মনে করছেন। অবৈধ টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তারা বলে, কাঁঠালপাতা দেখালেই ছাগলের অভাব হয় না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকার জাল নোট ঢুকেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে, রাতে গুলির শব্দ শোনা যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দলীয় পরিচয় রয়েছে এবং তারা পূর্বে নির্দিষ্ট দলের সুবিধাভোগী ছিলেন। অনুরোধ করছি, প্রজাতন্ত্রের কেউ যেন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করেন। ২০২৪, ২০১৮ বা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না।

অবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে জনগণের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এই অঞ্চলের মানুষ গত ৫০ বছরে কতটা প্রতারিত হয়েছে।

এসময় বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জেলা ও মহানগর এবি পার্টির সদস্য সচিব জিএম রাব্বিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাদের। 

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন