অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০২ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকালে কোথায় কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু করেন হার্জোগ। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সিডনি। শহরটিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিচের স্প্রে এবং কাদানে গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিক্ষোভকারীরা টাউন হল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্ট পর্যন্ত মার্চ করতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। আদালত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের আইনি চ্যালেঞ্জ বাতিল করে বিক্ষোভের ওপর সীমাবদ্ধতা দিয়ে দেন। মোতায়েন করা হয় প্রায় ৩ হাজার পুলিশ।
অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন ও ক্যানবেরায়ও প্রতিবাদ হয়। স্থানীয় ইহুদী কাউন্সিলের হাজারের বেশি সদস্য প্রধানমন্ত্রী অ্যানথনি আলবেনেসকে হার্জোগের আমন্ত্রণ বাতিল করার আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, শান্তি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিবাদ প্রয়োজন।
হার্জোগের সফর নিয়ে সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, তিনি গাজার ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞে উসকানি দিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া জানায়, হার্জোগের সরকারি সফর অস্ট্রেলিয়ার ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করেছে।
হার্জোগের চার দিনের সফর শুরু হয় সিডনির বন্দাই বিচ থেকে, সেখানে তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে হানুক্কা অনুষ্ঠানে নিহত ১৫ জনের স্মৃতিতে ফুল দেন এবং নিহতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া লোকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, হামলাটি গোটা অস্ট্রেলিয়ার ওপরও আঘাত।
সফরের সময় পরিকল্পিত বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হার্জোগ বলেন, তিনি শুভকামনা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরাইল বহুদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিক্ষোভ অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে, যা অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ইসরাইলের প্রেসিডেন্টকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান। আলবানিজ বলেন, বন্ডি এলাকায় হামলার ঘটনার পর এই সফর সামাজিক ঐক্য ও মানুষের মধ্যে একতার অনুভূতি জোরদার করতে সাহায্য করবে।
এমআর/এসএন