© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

'দ্যা ডিসেন্ট' এর ফ্যাক্টচেক / নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত আগেই ভোট দেওয়ার দাবিটি অসত্য

শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত আগেই ভোট দেওয়ার দাবিটি অসত্য

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩২ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধনকুণ্ডা স্কুল নির্বাচনী কেন্দ্রে জামায়াত আগেই ভোট দিয়ে দিচ্ছে—এ দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, এ দাবিটি সত্য নয়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওতাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় ভোটকেন্দ্রের ভেতর ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার প্রস্তুত-জনিত অভিযোগ তোলা হয়েছে এক প্রিজাইডিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার প্রস্তুত-জনিত অভিযোগ তুলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

তবে এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী রিটার্নিং অফিসার শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত বশিরুল হকসহ প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী কাগজপত্র গোছানোর কার্যক্রম করছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মেলেনি এবং তিনি প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে প্রেস নারায়ণগঞ্জের ওয়েবসাইটে “সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যালট পেপারকাণ্ডে ভোটকেন্দ্রে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “সিদ্ধিরগঞ্জের ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুলের ভোটকেন্দ্র-২–এ ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটকেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের আগে যেসব কাজ করতে হয়, তারা সেগুলোই করছিল। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ব্যালট মিলিয়ে দেখতে হয়। এখানে বাইরের কেউ ছিল না। এখানে দলীয় কোনো আলোচনা হচ্ছিল না। আমি বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে দেখেছি।”


প্রিজাইডিং অফিসারের জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। তিনি আমাদের কাছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। তিনি অনৈতিক কোনো কাজও করেননি। আমরা ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপার—সবকিছু পরীক্ষা করেছি।”

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, মাওলানা বশির আহমেদ একজন প্রধান শিক্ষক। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচন সরঞ্জাম বুঝে নেওয়াসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে প্রচার করা হয় যে সিল মারা হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ গুজব।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন