নাহিদ ইসলাম / আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যেন মানুষ ভোটকেন্দ্রে না আসে
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৯ এএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অনেক জায়গায় একটি প্যানিক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যেন মানুষ ভোটকেন্দ্রে না আসে। এমনসব তথ্য পাচ্ছি, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজ পেজ থেকে এক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন। হাজার মানুষের জীবনের পরও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সামনে ঘোর অন্ধকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, আমাদের কুড়িগ্রামের প্রার্থী আতিক মুজাহিদ ও তার কর্মীদের উপরে হামলা হয়েছে। আমার নিজের ঢাকা-১১ আসনেরও ৪২ নং ওয়ার্ডসহ কয়েকটা জায়গায় যেই কেন্দ্র সংলগ্ন এনসিপির ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে হামলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রে বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকরা। মাহমুদা মিতুর উপরও একটা হামলার কথা আমরা শুনেছি।
আপনারা হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকাও দেখবেন, তাকে থ্রেট দেওয়া হয়েছে কীভাবে। এটা তো এনসিপির না শুধু, জামায়াতে ইসলামীরও বিভিন্ন জায়গায় তাদের উপর হামলা হচ্ছে। সর্বোপরি ১১ দলের প্রার্থী এবং সমর্থকদেরকে বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়ে নাহিদ বলেন, সকালে কয়েকটা বিষয় হতে পারে।
ভোটকেন্দ্রে একটি পরিকল্পিত দীর্ঘ লাইন হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যেই লাইনটা তৈরি করা হয়েছে আপনাদের সময়টাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য। তখন আপনাদের সেটার প্রতিবাদ জানাতে হবে। এটা খোঁজ নিতে হবে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, হতে পারে কোনো কোনো কেন্দ্রে বা বিভিন্ন জায়গায় হয়তো একটা ককটেল বিস্ফোরণ অথবা এরকম কিছু করে একটা আতঙ্ক তৈরি করা, যাতে মানুষজন না আসে।
এটা আপনারা মোটেও ভয় পাবেন না। অনেক জায়গায় অপতথ্য ছড়ানো হবে বা এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং আমাদের ভলান্টিয়ার এবং সার্বিকভাবে আপনাদের উপস্থিতিতে এটা প্রতিরোধ করে সেই জায়গাকে আবার নিরাপদ করে তোলা সম্ভব, সেটার খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু কোনোভাবেই আপনারা ভোটকেন্দ্র থেকে যাবেন না।
নাহিদ বলেন, আমি গণমাধ্যমের ভাই-বোনদের বলব, বিশেষত হাউজের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, আপনাদের উচিত নিরপেক্ষভাবে প্রচার করা, দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। বিগত ১৬ বছর আপনাদের ভূমিকা কী ছিল এটা বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে। গণঅভ্যুত্থান পরে হয়তো ব্যাপকভাবে সংস্কার হয়নি বা তার মানে এই না আপনারা ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। এইবার নির্বাচনে আপনাদের ভূমিকা কী হবে, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রশাসনের ভাই-বোনদের বলব—আমরা সামনের দিকে আগাতে চাই। বিগত ১৬ বছর তিনটা ভোটে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। যারা এটার সাথে জড়িত ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনেও আমরা আশা করব আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। নাইলে জাতির কাছে আপনারা কখনোই দাঁড়াতে পারবেন না।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ বলেন, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন না, আপনাদের জন্য নিজেদের রিব্র্যান্ডিং করার একটা সুযোগ। আপনারা যে জনগণের পক্ষে আছেন, সেটাকে প্রমাণ করার।
তিনি বলেন, সর্বোপরি সেনাবাহিনীর ভূমিকার উপরই অনেকখানি নির্ভর করবে, এই নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হচ্ছে বা হবে। আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা আমরা জানি। বিশেষত সৈনিকেরা, তরুণ অফিসার যারা ছিলেন। ৩ আগস্ট আপনারা যেভাবে জোরালো ভূমিকা নিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫ আগস্ট যেভাবে আপনারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা আশা করব, আপনারা এই ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনে আপনারা সেই দৃঢ় ভূমিকায় আপনারা থাকবেন।
নাহিদ বলেন, ২০১৮ সালে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও আমি ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে যাওয়ার পর আমাকে প্রবেশ করতে দেয়নি।
তিনি বলেন, ফলাফল নিজের পক্ষে গেলেই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিজের পক্ষে না গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু না—আমরা এরকম কোনো মেন্টালিটি নিয়ে নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অনেকগুলা ক্রাইটেরিয়া আছে। এই নির্বাচনে প্রচুর পর্যবেক্ষক রয়েছে। এই নির্বাচন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে। প্রচুর আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াও তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে অনেক কিছু বোঝা যায়। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলো কি হলো না, এটা আপনারাই নির্ধারণ করতে পারবেন, আপনারাই বলতে পারবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন যদি না হয়, এর পরিণতি ভালো হবে না।
এবি/টিএ