ইরানে ফের রেজা পাহলভির সরকারবিরোধী কর্মসূচির আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৯ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরানের সর্বশেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র নিজ দেশে সরকারবিরোধী কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তা জার্মানি ও অন্যান্য দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি, যিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রাজতন্ত্র উৎখাতের আগে দেশ ত্যাগের পর আর ইরানে ফেরেননি, শনিবার মিউনিখ, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তার লক্ষ্য ইরান নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি তোলা।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বৃহস্পতিবার পাহলভি দেশের ভেতরে ইরানিদের নিজ নিজ বাসা ও ছাদ থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান। জানুয়ারিতে চূড়ান্ত রূপ নেওয়া সড়ক বিক্ষোভ কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ দমন করে। অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।
পাহলভি বলেন, প্রবাসী ইরানিরা শনিবার ‘বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগঠিত করতে’ বিক্ষোভ করবেন, যা তিনি ‘ইরানের লায়ন অ্যান্ড সান বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করেন- এটি সম্রাজ্যিক পতাকার প্রতীকের প্রতি ইঙ্গিত।
তিনি আরো বলেন, ‘এই চেতনায় আমি আপনাদের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৮টায় নিজ নিজ বাসা ও ছাদ থেকে কণ্ঠ তুলতে আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের দাবি জানান। ঐক্য প্রদর্শন করুন। অদম্য সংকল্প নিয়ে আমরা এই দখলদার শাসনের ওপর বিজয়ী হবো।’
পাহলভির শুক্রবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার বিরল সুযোগ।
এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উদ্যাপন চলাকালে কড়াকড়ি দমন-পীড়ন সত্ত্বেও মানুষ সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দমন-পীড়নে ৭ হাজার ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। তবে অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ সহিংসতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তাদের শপথকৃত শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ উসকানি দিয়েছে।
জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ চালায়।
অনেক বিক্ষোভে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী পাহলভি বলেছেন, তিনি দেশে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
এসকে/এসএন