সিরাজগঞ্জে জামানত হারিয়েছেন ২৭ প্রার্থী
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫২ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৯ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি ও একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী। এই ছয় আসনের বিজয়ী প্রার্থী ও তাদের নিকটতম ছয় প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি ২৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ-১ (সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ ও কাজিপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহিনুর আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ ভোট। এই দুই প্রার্থী ছাড়া আসনের বাকি চারজন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে জহুরুল ইসলাম ২ হাজার ৩৪ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মল্লিকা খাতুন ট্রাক প্রতীকে ১ হাজার ১৭০ ভোট, নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব ৩২ ভোট ও স্বতন্ত্র আব্দুস সবুর ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৬৩ ভোট। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ২১৪টি।
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ১৪১টি। এ আসনের মোট সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: মহিবউল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ ভোট, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের এস. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন মই প্রতীকে ৮৬৫ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী কাস্তে প্রতীকে ৭৬৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ট্রাক প্রতীকে মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ৪১০ ভোট ও জনতার দলের সোহেল রানা কলম প্রতীকে ১৮২ ভোট পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আয়নুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ ভোট পেয়ছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকসা প্রতীকের প্রার্থী মুহা: আব্দুর রউফ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭টি। এ আসনে মোট চারজন জন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৬৫৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিন ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এম. আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫টি। যার শতকরা হার ৭০ ভাগ। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২১৬ ভোট, জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামাণিক লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২১৩ ভোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল হাকিম কাস্তে প্রতীকে ৬৯৫ ভোট পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩টি। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নূরুন নবী হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৭৫৯ ভোট, জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২২৪ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মতিয়ার রহমান কাস্তে প্রতীকে ৩২৮ ভোট ও গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) ট্রাক প্রতীকে ২৩৫ ভোট পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মুহিত ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী এম, এম সাইফ মোস্তাফিজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৬টি। এ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিসবাহ উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো: মোশারফ হোসেন শহিদুল মোমবাতি প্রতীকে ১ হাজার ১৩০ ভোট, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৯৮ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) তারা প্রতীকে ৮৯০ ভোট, আম জনতার দলের আসাদুল হক প্রজাপতি প্রতীকে ৬৫৩ ভোট, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের হুমায়ন কবির ৪৪১ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের এ্যাড: আনোয়ার হোসেন মই প্রতীকে ৪০০ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আবু জাফর মো: আনোয়ারুল সাদাত ২৭১ ভোট ও স্বতন্ত্র ওয়াসেফ ইকবাল খান মজলিস হেলিকপ্টার প্রতীকের ২৫২ ভোট পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, সংসদীয় আসনের মোট বৈধ ভোটের ৮ দশমিক ১ ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের ৬ সংসদীয় আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোট ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন জামানত হারিয়েছেন।
আরআই/টিকে