© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৯

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৯

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৩ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সাতটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ময়েনদিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ও পাশের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। একটি নদী এই দুই উপজেলাকে বিভাজিত করেছে। নদীর ওপর একটি সেতু সালথা ও বোয়ালমারীর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছে।ময়েনদিয়া বাজারটি এ অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ বাজার। এ বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা, যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদের ছেলে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এবং তার সহযোগী টুলু মিয়ার সমর্থকেরা ময়েনদিয়া বাজারে গিয়ে হামলা চালালে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আনুমানিক ১৯ জন আহত হন। এ সময় মান্নান মাতুব্বরের সমর্থক জাকির খানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং খোকন মহলদার, রাজ্জাক মহলদার, আলামিন শিকদার, ফরিদ মুন্সী, দেলোয়ার মহলদার ও নুর ইসলাম সিকদারের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একটি বাড়ির পাটকাঠির গাদায় আগুন দেওয়া হয়।

আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও উভয় পক্ষের ১০/১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং একটি বাড়ির পাটকাঠির গাদায় আগুন দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে সালথা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে উক্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং সদ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত পরাজিত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসিরের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করেন। এছাড়াও মান্নান মাতুব্বর যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আবুল কালাম আজাদ দেশের বাইরে পলাতক থাকায় ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়নি।

আবুল কালাম আজাদের ছেলে জিহাদ এবং তার অনুসারীরা ২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মান্নান মাতুব্বর চেয়ারম্যানের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা–নগরকান্দা) সার্কেল মাহমুদুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ময়েনদিয়া ও খারদিয়া এলাকার দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন