© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ভাগ করতে চায় না: মার্কো রুবিও

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ভাগ করতে চায় না: মার্কো রুবিও

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১০ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে আলাদা করতে চায় না, বরং সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করে শক্তিশালী ইউরোপের সঙ্গে কাজ করতে চায়। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জার্মানির মিউনিখে বায়ারিশার হফ হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন। যা গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়। রোববার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। এতে ৬০টির বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৫০ জন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতা এবং কমপক্ষে ১১৫টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
 
মিউনিখে সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও অন্যান্য দেশীয় নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু রাশিয়ার কোনো প্রতিনিধি আমন্ত্রণ পাননি।
 
সম্মেলনের প্রথম দিনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘শক্তিশালী ইউরোপের’ গুরুত্ব উল্লেখ করেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে বিদ্যমান ‘সম্পর্কের ফাটল’র কথা স্বীকার করেন।
 
আজ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন উপস্থিত আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক আসাদ হাসান আল-শাইবানি।
  
সম্মেলনের বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের প্রতি আন্তরিক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এখন নতুন দিকনির্দেশনা নিয়েছে যা পূর্বের কিছু নীতি থেকে আলাদা।
 
রুবিও বলেন, ‘শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ‘ইতিহাসের শেষ’ হয়ে গেছে বলে যে ভাবনা চলে এসেছে-তা খুবই ভুল ধারণা।’ তিনি বিশ্বকে সীমাহীন ও নির্বিঘ্নে চলার জায়গা হিসেবে দেখার প্রবণতা সমালোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এর ফলে অনেকে চাকরি বা কাজ হারিয়েছে।
 
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে নতুন একটি পথ আছে। রুবিও বলেন, এই পথে যুক্তরাষ্ট্র একাই এগোতে প্রস্তুত, কিন্তু মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। তার কথায় স্পষ্ট যে, পরিকল্পনা হলো ইউরোপকে এই নতুন মিশনে যুক্ত করা।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা আলাদা হতে চাই না, আমরা একটি পুরনো বন্ধুত্বকে নতুনভাবে প্রাণবন্ত করতে চাই এবং মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা পুনর্নির্মাণ করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী ইউরোপ।’
  
বক্তব্যে নিজের প্রশাসনের কিছু নীতির সমালোচনা করেছেন রুবিও। বলেন, ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থা ‘সমাজের অস্থিতিশীলতার কারণ’।
 
ইউরোপীয় নেতারা এখন নিজ নিজ অঞ্চলের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেছেন, ‘চলুন একসাথে আস্থা পুনর্নির্মাণ করি।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এখনই সময় একটি শক্তিশালী ইউরোপের।’ যুক্তরাজ্যের কেয়ার স্টারমারও বলেছেন, ইউরোপকে ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ হওয়া উচিৎ হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কম নির্ভরশীল হতে হবে।
 
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স 

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন