মেহেরপুরে ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৯ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনি আসনে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে শতকরা সাড়ে ১২ ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিন প্রার্থীর জামানত হারানো এখন প্রায় নিশ্চিত।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা এবং গেজেট প্রকাশের পরপরই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি কার্যকর করা হবে।
মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোট বাদে) ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ অরুন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
এই আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর বাইরে থাকা অপর দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট অত্যন্ত নগণ্য। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী আইনজীবী মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৭৮১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩৯০ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের হার ১২.৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় বিধি অনুযায়ী এই দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৬৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫২ ভোট।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকী লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮২৫ ভোট। নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তারও জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ মেহেরপুরে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী মেহেরপুর-১ আসনে উপস্থিতির হার ৭৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং মেহেরপুর-২ আসনে উপস্থিতির হার ৬৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সব আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এমআই/টিএ