শান্তি আলোচনায় ইউরোপের অনুপস্থিতি 'বড় ভুল': জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫২ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় ইউরোপীয় নেতাদের অনুপস্থিতিকে ‘বড় ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে জেলেনস্কি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো ইউরোপ মহাদেশের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ কারণে আলোচনায় ইউরোপের ‘স্বার্থ ও কণ্ঠস্বর’ যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে কিয়েভ কাজ করছে।
আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠেয় ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আসন্ন পর্বটি যেন ফলপ্রসূ ও সবার জন্য সহায়ক হয়, সেই প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে জোর দিচ্ছে। কেউ যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আবার কেউ রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ সামনে আনছে। এতে সমন্বিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ কর্মকর্তারা আলোচনায় প্রায়ই ‘স্পিরিট অব অ্যাঙ্কোরেজ’ শব্দ ব্যবহার করছেন। যার মাধ্যমে তারা গত গ্রীষ্মে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া বৈঠকের প্রসঙ্গ টানছেন।
ওই বৈঠকে পুতিন বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ‘ঐতিহাসিক উৎস’ বা পেছনের কারণগুলো বিবেচনায় নিয়েই শান্তিচুক্তি করতে হবে। তবে ‘ঐতিহাসিক উৎস’ হিসেবে রাশিয়া ঠিক কী বোঝাতে চাইছে তা স্পষ্ট নয়। ইউক্রেন বিষয়টি নিয়ে কেবল অনুমানই করতে পারছে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের এই প্রধান নেতা আলোচনায় সমঝোতার বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, ‘আলোচনায় ছাড় বা সমঝোতার বিষয়টি প্রায়ই শুধু ইউক্রেনের ক্ষেত্রেই তোলা হয়। রাশিয়ার কাছ থেকে সমান ছাড়ের দাবি তোলা হয় না।’
তিনি বলেন, এতে রাশিয়ার আগ্রাসন নিরুৎসাহিত হওয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইউরোপের অনুপস্থিতি এই ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
জেলেনস্কির বক্তব্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মন্তব্যের সঙ্গে মিলে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ম্যাক্রোঁ বলেন, যুদ্ধের উন্মাদনায় থাকা আগ্রাসী রাশিয়ার জন্য ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানো প্রয়োজন।
আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আরেক দফা আলোচনায় বসছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এখনো যুদ্ধ বন্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র: ইউরো নিউজ
এমআর/এসএন