© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে কী?

শেয়ার করুন:
‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে কী?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩৭ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত নেতা শিশির মনির ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণা দেয়ার পর রাজনীতির আলোচনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা কী? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটির কার্যকারিতা কী?

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থা পরিচিত ধারণা। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা থেকে দেখা যায়, সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করা হয়। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হলো সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়। এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
 
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে থেকে দেখা যায়, ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়াতেও একইভাবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। প্রচলিত কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।
 
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন