© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ওমর সানীর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ কাণ্ড, একজনকে কুপিয়ে জখম

শেয়ার করুন:
ওমর সানীর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ কাণ্ড, একজনকে কুপিয়ে জখম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৯ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অভিনেতা ওমর সানীর রেস্তোরাঁয় ঘটে গেছে এক ভয়াবহ কাণ্ড। খেতে যাওয়া এক ক্রেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে রেস্তোরাঁরই এক কর্মী। বেশ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত আটটার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দিন ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান খান ৪-৫ জন বন্ধু নিয়ে চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি রেস্তোরাঁয় খেতে যান। সেখানে খেতে যাওয়া কয়েকজন নারী ক্রেতার সঙ্গে রেস্তোরাঁর এক কর্মী অশোভন আচরণ করায় প্রতিবাদ করেন আতিকুর। তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ নিয়ে আতিকুর ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে।

পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে ভুক্তভোগীরা প্রাণভয়ে দৌড়ে মূল সড়কের দিকে চলে যান। এ সময় অভিযুক্ত মো. ইমরান তাদের ধাওয়া করে ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। আরেক অভিযুক্ত লিখন লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। অন্যরাও তাকে ও তার বন্ধুদের মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আতিকুর রহমানের পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর আশপাশের ব্যবসায়ীরা আহতদের রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনায় আহত আতিকুরের চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় তেরো জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬), বাকিরা অজ্ঞাত।



মামলার বাদী মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বলেন, অভিনেতা ওমর সানীর রেস্তোরাঁয় একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তারা মহিলা কাস্টমারদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল। আমার ভাতিজা ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করায় ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন রকম অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে জখম করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

রেস্তোরাঁর ম্যানেজার কিরণ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিনেতা ওমর সানী বলেন, জনবল সংকট হওয়ায় কয়েক দিনের জন্য লিখন নামের একজনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার স্বভাব-চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে যাদের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়।

ওমর সানীর দাবি, লিখন মাদকাসক্ত ও অসদাচরণকারী হওয়ায় এ ধরনের অপকর্ম ঘটিয়েছে। তবে একজন কাস্টমারের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো, সেটি তিনিও বুঝতে পারছেন না।

তিনিও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

ঘটনার পর কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে ওমর সানী জানান, তিনি নিজেই পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লিখনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন। ব্যস্ততার কারণে এখনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনার পর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এমকে/টিকে

মন্তব্য করুন