ভীষণ রাগ হলে গাড়ির কাচ তুলে দিয়ে চেঁচাই: শতাব্দী রায়
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৫ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অভিনয়, রাজনীতি আর লেখালিখি তিন ভুবনেই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি তার। তবু ভেতরের মানুষটিকে চিনতে গেলে ধরা পড়ে এক ভিন্ন সুর। সম্প্রতি একক কবিতা পাঠের আয়োজন ঘিরে নিজের নানা দিক উন্মোচন করলেন শতাব্দী রায়। সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই কবিতা আবৃত্তি করে যে সাড়া পান, সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে নতুন অনুষ্ঠানের ভাবনা। কবিতাকে ভালোবাসেন এমন মানুষদের জন্যই তার এই আয়োজন, যেখানে শব্দ আর আবেগ মিলেমিশে তৈরি করবে অন্য এক পরিবেশ।
শুধু অভিনেত্রী বা রাজনীতিবিদ নন, ছোটবেলা থেকেই লেখালিখির সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা থেকে শুরু করে পরে বই প্রকাশ এই দীর্ঘ পথচলায় আত্মবিশ্বাসই ছিল প্রধান সঙ্গী। কবিতা তার কাছে নিছক শখ নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত আশ্রয়। ব্যস্ত সময়সূচির ভিড়েও তাই লেখার জন্য আলাদা সময় বের করে নেন তিনি, কারণ এই জায়গাটুকু শুধুই তার নিজের।

অভিনয়ে এখন খুব বেছে কাজ করেন শতাব্দী। সংসদীয় দায়িত্ব, এলাকার কাজ আর পারিবারিক সময় সব সামলে যখন হাতে ফাঁক মেলে, তখনই নতুন প্রস্তাব ভেবে দেখেন। তার মতে, এখন পর্দায় উপস্থিতি মানেই আলাদা কিছু হওয়া দরকার, শুধুই উপস্থিত থাকার জন্য নয়। এই বাছাই মনোভাবই তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে রাখে।
সমসাময়িক শিল্পজগতের পরিবর্তন নিয়েও তার ভাবনা স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমের যুগে সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার তাড়না। কিন্তু এই তাড়াহুড়োর ভেতরে শিল্পের স্থায়িত্ব অনেক সময় হারিয়ে যায় বলেই মনে করেন তিনি। আগের সময়ের তারকাদের নাগাল পাওয়া কঠিন ছিল, তাই দর্শকের কৌতূহলও ছিল বেশি এই তুলনাটাও টানেন তিনি অকপটে।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তার কণ্ঠে শোনা যায় উদ্বেগ। শিল্পের ভেতরে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। বরং শিল্পীর স্বাধীনতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তার বিশ্বাস, মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকাই শিল্পের জন্য মঙ্গলজনক।
আর ব্যক্তিগত রাগ কিংবা চাপ সামলানোর নিজস্ব উপায়ও জানিয়েছেন শতাব্দী। প্রচারের ব্যস্ততায় কখনও বিরক্তি জমলে গাড়ির কাচ তুলে একা একাই চিৎকার করেন যাতে সেই রাগ অন্য কারও ওপর গিয়ে না পড়ে। এই স্বীকারোক্তিতেই যেন ধরা পড়ে পর্দার তারকার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক সাধারণ মানুষের সহজ স্বভাব।
পিআর/টিকে