লা লিগা / আতলেতিকো মাদ্রিদের পর এবার জিরোনার মাঠেও হারল বার্সেলোনা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৭ এএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার পর, ইয়ামাল-লেভানদোভস্কিদের মাঝে ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়না দেখতে চেয়েছিলেন হান্সি ফ্লিক।কোচের ডাকে সাড়া দিতে পারলেন না তারা। বরং জিরোনার বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও, পথ হারিয়ে আবার হেরে বসল বার্সেলোনা।
প্রতিপক্ষের মাঠে সোমবার লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরে গেছে শিরোপাধারীরা। পাও কুবার্সির গোলে পিছিয়ে পড়ার পরপরই সমতা টানেন তমাস লেমা। এরপর শেষদিকে ব্যবধান গড়ে দেন ফ্রান বেলত্রান।
কোপা দেল রে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে গত বুধবার আতলেতিকোর মাঠে ৪-০ গোলে পর্যদুস্ত হয় বার্সেলোনা। সেই ধাক্কা সামলে জয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জে পেরে উঠল না তারা। উল্টো লা লিগায় টানা তিন জয়ের পর, হেরে বসল এখানেও।

ফলে লিগ টেবিলে শীর্ষে ফেরাও হলো না বার্সেলোনার। আসরে চতুর্থ হারের পর, ২৪ ম্যাচে ১৯ জয় ও এক ড্রয়ে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে দলটি। তাদের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ।
বার্সেলোনার আক্রমণে চেনা ধার তেমন ছিল না বললেই চলে। ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য তাদের ২৬ শটের কেবল চারটিই লক্ষ্যে ছিল। ভাগ্যও তাদের সহায় হয়নি; দলটির তিনটি প্রচেষ্টা পোস্টে লাগে, এর মধ্যে একটি আবার স্পট কিক।
বিপরীতে আগের তিন রাউন্ডে জয়হীন জিরোনার ১৩ শটের ৯টিই লক্ষ্যে থাকে। দারুণ এই জয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে উঠেছে তারা। ম্যাচের আগে চোট কাটিয়ে পেদ্রির ফেরার সম্ভাবনার খবর এলেও, শেষ পর্যন্ত মাঝেমাঠের বড় ভরসাকে ছাড়াই মাঠে নামে বার্সেলোনা। তবে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা কাটিয়ে প্রত্যাশিতভাবেই ফিরলেন রাফিনিয়া।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে রাফিনিয়াই প্রখম সুযোগটি তৈরি করলেন, বাইলাইনের কাছ থেকে ডি-বক্সে ফাঁকায় খুঁজে নিলেন ইয়ামালকে। তবে তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শটটা লক্ষ্যে রাখতে পারলেন না।
১০ মিনিট পর কাছ থেকে রাফিনিয়ার শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটে নিশ্চিত এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল।বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি।
পাল্টা আক্রমণে উঠে ২৩তম মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় জিরোনা। যদিও ভ্লাদিস্লাভের ওই প্রচেষ্টা কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি বার্সেলোনা গোলরক্ষককে। ছয় মিনিট পর ভ্লাদিস্লাভের আরেকটি শট পা দিয়ে আটকান গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।
৪৩তম মিনিটে দুর্ভাগ্যও বাধা হয়ে দাঁড়ায় বার্সেলোনার সামনে; রাফিনিয়ার শট পোস্টে প্রতিহত হয়। লিগে এই নিয়ে চলতি মৌসুমে তাদের ২৪টি প্রচেষ্টা পোস্ট বা ক্রসবারে লাগল, অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ছয়টি বেশি।
এক মিনিট যোগ করা সময়ে দানি ওলমো ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। কিন্তু, ইয়ামালের নেওয়া স্পট কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অবশেষে ৫৯তম মিনিটে কুবার্সির নৈপুণ্যে ডেডলক ভাঙতে পারে বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে জুল কুন্দের ক্রস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে, দারুণ হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন তরুণ ডিফেন্ডার কুবার্সি। লা লিগায় এটাই তার প্রথম গোল।
তাদের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য দুই মিনিটেই হতাশায় রূপ নেয়। বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও পারেননি কুবার্সি। বরং আবার বল পেয়ে এবার গার্সিয়াকে ফাঁকি দিয়ে গোলমুখে সতীর্থকে খুঁজে নে ভ্লাদিস্লাভ এবং বিনা বাধায় জালে বল জড়ান তমাস লেমা।
৭১তম মিনিটে গার্সিয়ার দারুণ দুই সেভে সমতায় থাকে বার্সেলোনা। চার মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে জোয়ের রোহার শটও পা দিয়ে রুখে দেন গার্সিয়া।
৬৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার জায়গায় রুনি বার্দগি ও ৭৩তম মিনিটে ফেররান তরেসকে তুলে রবের্ত লেভানদোভস্কিকে নামান বার্সেলোনা কোচ।যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে একবার জালে বল পাঠাতে পারে বার্সেলোনা, অফসাইডে ছিলেন লেভানদোভস্কি।
একটু পর ইয়ামালকে বিপজ্জনক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন জিরোনার তরুণ ফরোয়ার্ড রোহা। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর যথেষ্ট সময় আর পায়নি বার্সেলোনা।
এমআর/টিএ