সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির শপথ না নেয়া আইনসম্মত: আইনজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০১ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির শপথ না নেয়াকে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা। সংসদে এ বিষয়ক সংস্কারের পরই পরিষদ গঠনের শপথ নেয়া যাবে বলে জানান তারা। যদিও এর সমালোচনা করে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অমান্য করেছে বিএনপি।
শপথ গ্রহণের দিনই দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতে আলোচনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন বিএনপির নির্বাচিতরা। এর আগেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা নেই দেশের বর্তমান সংবিধানে। বিধানটি যুক্ত করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে। যা বাস্তবায়নে গত নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আদেশ জারি করেন। তবে আইনজীবীরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির এ ধরনের কোনো আদেশ জারির ক্ষমতা নেই।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী জাহেদ মালিক বলেন, এই সংবিধান চালু থাকা অবস্থায় আসলে প্রেসিডেন্ট অর্ডারের কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংসদ অধিবেশনে না থাকলে আইন তৈরি করা হবে- সেটার বিধান কিন্তু সংবিধানে বলা আছে।
সংসদে আইন প্রণেতাদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব বলে জানান আইনজীবীরা। অন্যথায় সংসদ সদস্যদের আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পরে ক্ষমতা দখলের পরে তারা কিন্তু এটা ধীরে ধীরে সংবিধান সংশোধন করে করবেন। সংবিধানের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হতে হবে। এই প্রক্রিয়া ছাড়া সংবিধানের বাইরে কোনো কোনো জিনিসের কোনো অস্তিত্ব আইনগতভাবে নেই।
আর শপথ না নিয়ে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ অমান্য ও জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য যে আদেশটি জারি করা হয়েছিল। সেই আদেশটি আজকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অমান্য করেছে। এটা কোনো যুক্তি না, গায়ের জোর।
এদিকে, গণভোটকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এক আইনজীবী।
এমআর/টিএ