বাবরি মসজিদের ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ এসেছে বাংলাদেশ থেকে, দাবি শুভেন্দুর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৫ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণাধীন বাবরি মসজিদের অর্থ যোগাচ্ছে বাংলাদেশ! বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ সাহায্য এসেছে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশ থেকে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শক্তির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর অভিযোগ, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে সাতদিন বাংলাদেশে ছিলেন হুমায়ুন। যদিও শুভেন্দুর এমন বক্তব্যকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা তৃণমূল কংগ্রেসের বরখাস্তকৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
আগামী এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভারতের এই রাজ্যটিতে নির্বাচনের আগে তুঙ্গে উঠেছে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক বিতর্ক। যার অন্যতম কেন্দ্রে এখন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ ইস্যু। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বুধবার উত্তর কলকাতার মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি রাজ্যে কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘তথাকথিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস এবং নতুন দল গঠনের আগে, সাতদিন বাংলাদেশে কাটিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাবরি মসজিদের জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করেছেন, তার ৫০ শতাংশের বেশি অর্থ বাংলাদেশ থেকে এসেছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের আগে হুমায়ুন কবীর বাংলাদেশে ছিলেন সাতদিন। বাংলাদেশের জামায়াত ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেতু হুমায়ুন কবীর। হিন্দুরা তো বটেই, রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরাও এগিয়ে আসুন, এটা দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন।’
শুভেন্দুর দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পারেই মৌলবাদী শক্তি নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করছে। বাংলার হিন্দুদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডে কারা জড়িত ছিল? হরিহরপাড়া মাদ্রাসা থেকে ‘আনসারুল বাংলা’র সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কারা?
তার অভিযোগ, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য সরকার আগ্রহী নয়, সেকারণেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার কাজে রাজ্য সহযোগিতা করছে না। সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্য হাসান ইমরানের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা ভারতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
যদিও শুভেন্দুর সেই দাবির কড়া জবাব দিয়েছেন সদ্য জন্ম নেয়া জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন। রীতিমত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা। তার দল ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারে আছে। উনি যে এত নির্বোধ বা অনভিজ্ঞ তা জানতাম না। মোদিজি কার লোক? তিনিই তো বিজেপির সর্বোচ্চ নেতা। অমিত শাহ সেকেন্ড ম্যান, ভারতের হোম মিনিস্টার। সব ধরনের তদন্তকারী সংস্থা তাদের হাতে রয়েছে। তাদের বলে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে নিন। আমি যদি কোনও আইনবিরোধী কাজ করে থাকি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
তিনি সত্যিই বাংলাদেশ গিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেন, ‘হ্যাঁ আমি গিয়েছিলাম। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর ১২ দিন আমি ওখানে ছিলাম। তাতে কী হয়েছে? আমি কী চুরি করতে গিয়েছি? আমার অধিকার আছে। আমি বৈধ পাসপোর্ট বৈধ ভিসা নিয়ে গিয়েছি। আমার আত্মীয়রা আছে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি। ঢাকায় আমার ভাগ্নের বাড়ি গিয়েছি। দুদিন তাদের বাড়িতে থেকেছি। কক্সবাজার গিয়েছি পরের দিন আবার ফ্লাইট ধরে। ৩ দিন সেখানে থাকার পর, চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা ফিরেছি। জ্যোতিবসুর জন্মভিটে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছি। তারপর আবার ঢাকাতে ফিরে কেরানীগঞ্জে গিয়েছি। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছি। সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা জিজ্ঞাসা করেছি। পুরোহিতের সাথে দেখা করেছি। মানুষের ধর্ম পালন করতে অসুবিধা হয় কি না জেনেছি। বিকেলে বসুন্ধরা মার্কেটেও গিয়েছি।’
বাবরি মসজিদ নির্মাণের অর্থ বাংলাদেশ থেকে আসছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হুমায়ুন আরও বলেন, ‘আমাদের যে অ্যাকাউন্ট আছে সেই অ্যাকাউন্টে কোনও পয়সা বাইরে থেকে আসতে পারে না। বাইরে থেকে যেন টাকা আসতে পারে সেই জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। এক মাসের বেশি হয়ে গেছে কিন্তু দিল্লি থেকে কোনোরকম অনুমতি আসেনি। তাহলে কিভাবে টাকা আসবে? পাগলের মতো কথা বলেই হলো? পাগলের মতো কথা বলছেন। শুভেন্দু অধিকারী পাগল হয়ে গেছেন।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জামায়েতের লিংক তৈরি করতে তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বলে শুভেন্দুর মন্তব্যের জবাবে হুমায়ুন বলেন, ‘বৈধ পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার কী করছিল। উনি উল্টো-পাল্টা প্রশ্ন করছেন, এই ব্যাপারে আমি কি বুঝবো? এই পাগল লোকের কোনও কথার জবাব আমি দেব না।’
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন কী না জানতে চাওয়া হলে হুমায়ুন বলেন, ‘কিছুই করবো না, এদের বেশি হাইলাইট করে লাভ নেই। পাগলে যা বলে বলতে দিন। পাগলের কথার জবাব আমি দেব না। ওকে যত খুশি কথা বলতে দিন। যত কথা বলবে, ততো ওদের আসন কমবে।’
প্রসঙ্গত, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনকে সামনে রেখে গেল বছরের ৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন হুমায়ুন। মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে তখন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এই মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই কোটি কোটি টাকা চাঁদা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই অর্থেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়ায় হুমায়ুনকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় শাস্তিতে দমে না গিয়ে তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। একই সঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দেন হুমায়ুন। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন এআইএমআইএমের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই সংখ্যালঘু নেতা।
এসএস/টিএ