© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অপরাধ যে-ই করুক রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পাবে না: শামা ওবায়েদ

শেয়ার করুন:
অপরাধ যে-ই করুক রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পাবে না: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩১ এএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, “দোষী যেই হোক, সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত দলমত দেখার প্রয়োজন নেই। আইনের প্রয়োগ সকলের জন্য সমান।”

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের অবস্থান একদম পরিষ্কার। কেউ অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত ও টিমওয়ার্কভিত্তিক কাজের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমি এখানে শুধু মন্ত্রী হিসেবে বসিনি, আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমরা যদি একসঙ্গে পরিকল্পনা করি ও বাস্তবায়ন করি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে একটি মডেল জেলায় রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনাদের অনেকের কাছেই আমার ব্যক্তিগত নম্বর আছে। মাঠপর্যায়ে কোনো সমস্যা, চ্যালেঞ্জ বা বাধা থাকলে সরাসরি আমাকে জানাবেন।” আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, “রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের মনে স্বস্তি নিশ্চিত করা। মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

মাদক সমস্যা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঘরে বসে আলোচনা করে মাদক নির্মূল হবে না। আমাদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, মাদকসেবীদের অনেক ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।

“স্বল্পমেয়াদে কঠোর অভিযান চালাতে হবে, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে” বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার বহু সংগ্রাম ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে দায়িত্বে এসেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্কাকে সম্মান জানিয়ে আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

সভায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনের কথা বলছি, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। তবে মানুষ যেমন এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যাওয়ার আশা করে, বাস্তবতা তা নয়। ধাপে ধাপে হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।”

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী, সদস্য সচিব একে কিবরিয়া ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।

সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে বাবা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। পরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছি। আমরা দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।”

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে তা হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তার সন্তান হিসেবে শুধু সালথা-নগরকান্দা নয়, জেলার সব উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়ন আমার দায়িত্ব। অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চাই।”

আইকে/টিকে

মন্তব্য করুন