১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে : চীনা রাষ্ট্রদূত
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৫ এএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।’
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহ পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী, কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।’
চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি প্রতিষ্ঠানে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে।
চীনা পক্ষ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশে তারা সফলভাবে চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করেছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক (নিড-বেইজড) শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সরেজমিনে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেএন/এসএন