© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘তারকা হলেই যা খুশি বলা যায় না’, রণবীরকে কড়া বার্তা কর্নাটক হাই কোর্টের

শেয়ার করুন:
‘তারকা হলেই যা খুশি বলা যায় না’, রণবীরকে কড়া বার্তা কর্নাটক হাই কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২০ পিএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কথা বলার ক্ষেত্রে তারকাদের দায়বদ্ধতা কতটা, সেই প্রশ্নই যেন নতুন করে সামনে এনে দিল কর্নাটকের একটি আদালত। জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংহ-কে প্রকাশ্যে সংযমের পাঠ পড়াল কর্নাটক হাই কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, খ্যাতি থাকলেই যা খুশি বলা বা করা যায় না।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত আপাতত স্বস্তি দিয়েছে অভিনেতাকে। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে কড়া ভাষায় সতর্কও করা হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আপনি রণবীর সিংহ হোন বা যে-ই হোন, যা খুশি বলার অধিকার কারও নেই।”

অভিযোগের সূত্রপাত গত বছরের শেষ দিকে একটি অনুষ্ঠানমঞ্চে। সেখানে কান্তারা ছবির মুখ্য অভিনেতা ঋষভ শেট্টী-র অভিনয়ের অনুকরণ করেন রণবীর। শুধু তা-ই নয়, ছবিতে উপস্থাপিত চামুণ্ডাদেবীর চরিত্রও মঞ্চে তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় দেবীকে ‘মহিলা ভূত’ বলে সম্বোধন করেন অভিনেতা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্যের চিত্র সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকের দাবি, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং ঋষভ শেট্টীকেও অসম্মান করা হয়েছে।



মঙ্গলবার শুনানির সময় বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন স্পষ্ট ভাষায় জানান, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করার অধিকার কোনও তারকার নেই। তাঁর মন্তব্য, খ্যাতনামী ব্যক্তিদের প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর বেশি, তাই তাঁদের দায়িত্বও বেশি। জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও মত আদালতের। প্রয়োজনে যাঁকে বা যেটিকে নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আগে থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতির কথায়, ভুল হলে শুধু ক্ষমা চাইলেই দায় মেটে না। মানুষ হয়তো সময়ের সঙ্গে ভুলে যায়, কিন্তু অন্তর্জাল কিছুই ভোলে না। তাই জনসমক্ষে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব বোঝা প্রয়োজন।

শুধু ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নই নয়, একজন অভিনেতা হয়ে অন্য অভিনেতার অনুকরণ করাও আদালতের সমালোচনার মুখে পড়েছে। গোটা ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা, খ্যাতি থাকলেই দায়মুক্তি মেলে না; বরং দায়িত্ব আরও বাড়ে।

এমকে/টিএ

মন্তব্য করুন