প্রেম ও বিতর্কে থেমে যায় ‘পরদেশি’ নায়িকার ক্যারিয়ার
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৬ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নব্বই দশকে কারিশমা কাপুর, রাভিনা ট্যান্ডন ও পূজা ভাটের মতো একাধিক তারকা সন্তান বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ঠিক একই সময়ে বলিউডে পা রাখেন আরেক ‘স্টারকিড’ প্রতিভা সিনহা।
অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ১৯৯৬ সালের সুপারহিট ছবি ‘রাজা হিন্দুস্তানি’র আইকনিক গান ‘পরদেশি’ তে তার ঝলমলে উপস্থিতির জন্য। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এক বিতর্কিত অধ্যায় শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দেয় তার অভিনয়জীবন।
‘রাজা হিন্দুস্তানি’র আইকনিক গান ‘পরদেশি’ তে প্রতিভা সিনহা
১৯৯২ সালে ‘মেহবুব মেরে মেহবুব ছবি’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় প্রতিভার। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে, তবু চলচ্চিত্র পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদে তিনি দ্রুত আরো কাজ পান।
এরপর তিনি কাজ পান ‘কাল কি আওয়াজ’ ছবিতে যেখানে কাজ করতে গিয়ে তার পরিচয় হয় তৎকালীন জনপ্রিয় সুরকার জুটি নাদিম-শ্রাবণের সঙ্গে। যারা তখন ‘আশিকি’র সাফল্যের পর বলিউডে শীর্ষে অবস্থান করছিলেন। এই সময়েই প্রতিভার সঙ্গে সুরকার নাদিম সাইফির প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়।
প্রতিভা সিনহা

ধীরে ধীরে অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কই হয়ে ওঠে তার জীবনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু যা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মালা সিনহা।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মালা সিনহা শুরু থেকেই এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধিতা করেন। নাদিমের বিবাহিত জীবন, ধর্মীয় ভিন্নতাই ছিল আপত্তির মূল কারণ।
বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মালা সিনহার মেয়ে প্রতিভা
১৯৯৬ সালে আমির খান অভিনীত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’তে ‘পারদেশি’ গানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল প্রতিভার। পরিচালক ধর্মেশ দর্শন এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘প্রতিভা বিনা পারিশ্রমিকে এই গানে কাজ করেন। তিনি তখনই বলেন একদিন মানুষ তাকে এই একটি গান দিয়েই মনে রাখবে। দুঃখজনকভাবে সেটাই সত্যি হয়।’
তিনি আরও জানান, প্রতিভা পরবর্তীতে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে-র একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন যা পরে মন্দিরা বেদী করেন।
সম্পর্ক ঘিরে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছালে মালা সিনহা মেয়েকে দূরে সরিয়ে নিতে চেন্নাইয়ে নিয়ে যান। তবু যোগাযোগ নাকি বন্ধ হয়নি। ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন ছড়ায়, প্রতিভা নাদিমের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। পরে তাঁকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে এনে মালা সিনহা সংবাদ সম্মেলনে নাদিমের বিরুদ্ধে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
১৯৯৭ সালে সংগীত ব্যবসায়ী গুলশন কুমার হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে নাদিম সাইফির নাম উঠে আসে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাদিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি লন্ডনে থেকে যান এবং আর ভারতে ফেরেননি।
এরপর কয়েকটি ফ্লপ ছবির পর প্রতিভা সিনহা ধীরে ধীরে অভিনয়ের ঝলমলে আলো থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আজও তিনি অবিবাহিত ও আলোচনার আড়ালে জীবন কাটাচ্ছেন। আর সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে রয়েছে প্রতিভার ‘পরদেশি’ গান।
এমকে/টিএ