© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রোলারদের আক্রমণে সোশাল মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত ইমনের

শেয়ার করুন:
ট্রোলারদের আক্রমণে সোশাল মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত ইমনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪০ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মায়ের মৃত্যুদিনে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। স্রেফ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সেই পোস্ট। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তা বদলে যায় তীব্র কটাক্ষ আর ব্যক্তিগত আক্রমণের মঞ্চে। নেটমাধ্যমের নির্মম শব্দবাণে বিদ্ধ হলেন সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। আর সেই আঘাতেই এবার নেটমাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত একটি মন্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, এক নেটব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লেখেন, মাকে ডেকে দেখান কীভাবে পাঁচালি গেয়ে চটি চেটে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন, এরপর নোবেলও পাবেন। শুধু শিল্পী নন, তাঁর প্রয়াত মাকেও টেনে এনে করা হয় এই আক্রমণ। মন্তব্যটি চোখে পড়তেই ভেঙে পড়েন ইমন।

বৃহস্পতিবার সকালে নেটমাধ্যমে সরাসরি এসে গোটা বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। শান্ত অথচ ক্ষতবিক্ষত কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, তিনি তো সব ধরনের গানই গেয়েছেন, পাঁচালিও। তাতে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনও আপত্তি নেই, তাহলে অন্যের সমস্যাটা কোথায়। শিল্পচর্চাকে কেন্দ্র করে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু মৃত মাকে জড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না বলেই স্পষ্ট জানান গায়িকা।

নেটমাধ্যম যে তারকাদের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এনে দেয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই সহজ প্রাপ্যতাই অনেক সময় হয়ে ওঠে অপপ্রয়োগের হাতিয়ার। ইমনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্নকেই আরও একবার সামনে আনল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের গান, কাজ আর ব্যক্তিগত মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার পর তিনি জানিয়ে দেন, আপাতত সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নেটমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।




ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিল্পীমহল ও অনুরাগীদের একাংশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনওই ব্যক্তিগত অবমাননার লাইসেন্স হতে পারে না। ইমনের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং নেটসংস্কৃতির অসুস্থ দিকের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

শিল্পীর কণ্ঠে আঘাতের সুর স্পষ্ট। তবু তাঁর বক্তব্যে ছিল না কোনও বিষোদ্গার, ছিল কেবল প্রশ্ন আর ক্লান্তি। সেই ক্লান্তি থেকেই আপাতত নেটদুনিয়া ছেড়ে থাকার সিদ্ধান্ত। তবে তাঁর গান থামছে না, থামছে না শিল্পযাত্রাও। কেবল থামছে এক ভার্চুয়াল জানালা, যার ওপারে কখনও ভালোবাসা, কখনও নির্মমতা।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন