© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

একুশে পদক-এ ভূষিত হলেন বরেণ্য পালাশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার

শেয়ার করুন:
একুশে পদক-এ ভূষিত হলেন বরেণ্য পালাশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৩ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক–এ ভূষিত হলেন বরেণ্য পালাশিল্পী ইসলাম উদ্দিন পালাকার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেন।

পদকপ্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশের একটি গণমাধ্যম অনলাইনকে ইসলাম উদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,“অনুভূতির ব্যাপারে কী আর বলবো! শুধু এটুকু বলি, এটা আমার পালাকার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন।”

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পালাগানের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী জানান, তার শিল্পীজীবনের সূচনাই হয়েছিল পালা দিয়ে। সেই পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক প্রাপ্তিকে তিনি দেখছেন এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে।

তার ভাষায়, “আমি বহুকাল ধরে পালা গান গাইতেছি। এই জীবনের শুরুটাই পালা গান দিয়ে। কিন্তু এই পালাকার জীবনে আজকের দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন তো আর আসেনি।”

শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এই সম্মানকে তিনি দেখছেন পালাগানের সামগ্রিক মর্যাদা বৃদ্ধির মাইলফলক হিসেবে। ইসলাম উদ্দিন বলেন,“এই পদক (একুশে পদক) প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে পালা গান দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে গেছে।”



গ্রামবাংলার মাটির গন্ধমাখা পালাগানকে দেশ–বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া ইসলাম উদ্দিনের এই স্বীকৃতিকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে লোকগান নিয়ে কাজ করেন, এমন অনেকেই ইসলাম উদ্দিনের এই স্বীকৃতিকে কেবল একজন শিল্পীর প্রাপ্তি নয়, দেখছেন লোকসংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারার প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান হিসেবে।

দীর্ঘ সাধনা, ওস্তাদের সান্নিধ্যে শিক্ষাগ্রহণ, হাওর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সব পথ পেরিয়ে আজকের এই অর্জন তাই ইসলাম উদ্দিন পালাকারের শিল্পজীবনের এক উজ্জ্বল মুকুট।

ইসলাম উদ্দিন পালাকার ১৯৬৯ সালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মক্তব পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও শৈশবেই যাত্রাপালা ও পালাগানের প্রতি আকৃষ্ট হন। বড় দুই ভাই ‘ঝুমুর যাত্রা’ দলে অভিনয় করতেন- তাদের দেখেই অনুপ্রাণিত হন।

‘দেওরা’ গান দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়তা পান তিনি

১৯৮১ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘কাশেম মালা’ যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর শিল্পীজীবন শুরু। কৈশোরে ওস্তাদ কুদ্দুস বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পালাগান রপ্ত করেন। ‘গুলে হরমুজ’ পালা দিয়ে মূল গায়েন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরে নিজস্ব দল গড়ে স্বতন্ত্রভাবে পথচলা শুরু করেন।

২০২৩ সালে কোক স্টুডিও বাংলার ‘দেওরা’ গানে কণ্ঠ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন