© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে জোরালো সমর্থন

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে জোরালো সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২৭ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার নির্বাহী বৈঠকের সাইডলাইনে জেদ্দায় ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতায় সময় কাটান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চান এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নির্বাহী বৈঠকের চেয়ারম্যান সেরিং মদু এনজি।

বৈঠকে নেতারা বাংলাদেশে নির্বাচনে বিএনপির বিজয় ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান-এর দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি বাড়াবে।

ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবস্থানের প্রশংসা করে নেতারা ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় পূর্ণ সমর্থন জানান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র সঙ্গে তার পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাংলাদেশ সফরের প্রত্যাশা করছেন।

তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানান। রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে তুরস্কের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান ড. খলিলুর রহমান। রমজানের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-কে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশও যৌথভাবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিন বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আরব ও ইসলামি বিশ্বের সমর্থনের আশ্বাস দেয়।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলায় গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় গাম্বিয়া পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে কাজ করার আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফারহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় আগামী জুনে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস-এর মধ্যে। প্রায় চার দশক পর এ পদে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ। 

এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

এসএস/এসএন

মন্তব্য করুন