এবার ইকরার সহপাঠীর চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্ট
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৮ পিএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আফরা ইভনাত খান ইকরার মৃত্যুর পর ফুঁসে উঠেছে তার বন্ধুমহল। ফেসবুকে একের এক পোস্ট দিয়ে আলভী-ইকরার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করছেন তারা। অনেকে জানিয়েছেন, এক সহকর্মী শিল্পীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন আলভী।
ইকরার জাহাঙ্গীরনগরের সহপাঠী নিলুফা ইয়াসমিন ফেসবুকে লিখেছেন এক দীর্ঘ পোস্ট। সেখানে ইকরার চারিত্রিক দৃঢ়তার কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। নিলুফা লিখেছেন, ‘ইকরা আর আলভি পড়তো রাইফেলসে। স্কুললাইফ থেকেই ওদের প্রেম ছিল। আলভি মাঝে মাঝে আসতো ক্যাম্পাসে। ইকরা আমার বেডমেট হওয়ায় আলভির অনেক কিছুই শেয়ার করতো। বিশেষ করে ওদের ঝগড়া হলে ইকরা আমাকে অনেক মেসেজ দেখাতো, যে মেসেজগুলো দেখে কখনই মনে হইতো না বিন্দুমাত্র রেসপেক্ট ইকরার প্রতি তার ছিল।’
প্রেমিকের প্রতি ইকরার নিবেদন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিলুফা লিখেছেন, ‘আমাদের সাথে রিক্সায় উঠলে ইকরা কখনো রিক্সাভাড়া দিত না। কারণ ও টাকা সেভ করতো আলভীর সাথে ডেটে যাওয়ার জন্য। একটা মানুষকে পাওয়ার নেশা ওর মধ্যে এতই বেশি ছিল যে, পড়ালেখাটা ওর কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না। আল্টিমেটলি ইকরা ফেল করলো, রিপিট করলো জুনিয়র ব্যাচের সাথে।

ততদিনে ইকরা-আলভির বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পরে ওর জগতটা ছিল আলভীকে ঘিরেই এবং আলভীর ক্যারিয়ার সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়ে গেছে। এরপর বাচ্চা হইলো। সোস্যাল মিডিয়াতে ওর নিয়মিত সুন্দর সুন্দর পোস্ট, ওদের এনিভার্সারিতে ওদের লাভস্টোরি লেখা, ভিডিও দেখে হাজার হাজার মানুষ প্রশংসা করতো। বাট এইসব গল্পের পিছনেও অনেক গল্প ছিল, যেগুলো অনেকেই জানতো, অনেকেই জানতো না।
ওই পোস্টে নিলুফা আরও লিখেছেন, ‘আলভীকে বিয়ের ঠিক কয়েকদিন আগেও একবার টিএসসিতে ঝগড়া করার সময়ে ইকরা সেন্সলেস হয়ে গেছিলো। ইকরা চাইলেই পারতো রিজিককে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে, হয় নাই। কারণ মেয়েরা আসলে স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না, তবে এইটুকু বলতে পারি, ইকরা সু*ইসা*ইড করার মতো মেয়ে না। ওর লাইফে অনেক স্ট্রাগল ছিল। যেহেতু ওর বাবা-মা আলাদা থাকতো।’

বন্ধুর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন হবে না, সেই আক্ষেপ করতে গিয়ে নিলুফা লিখেছেন, ‘ওর পুরো পৃথিবীতে ওর একটাই মানুষ ছিল, আলভী। ওকে শুধু ভাঙতে পারতো এই একটা মানুষ। আমি বা আমরা অনেকেই জানি না কেন ও এই ছেলের জন্য এত ক্রেজি ছিল। একটা মেয়ে সব ছেড়ে দিয়েছিলো শুধু একজনের সাথে হ্যাপি থাকার জন্য। রিজিকের জন্মের পরে ও পুরো সংসারি হয়ে গেছিলো। ইকরাকে অনেক দিন আগেই মানসিকভাবে মেরে ফেলা হইছিলো। শারীরিকভাবে ও নিজেকে মারছে নাকি ওকে মেরে ফেলা হইছে সেটা তদন্ত করা খুব জরুরি। একটা মানুষ সব এক্সপোজ করবে বলে পোস্ট দিলো, এরপর সে গলায় ফাঁসি নিলো, এটা আপনাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয় না? যদিও তদন্ত হবে না জানি। কারণ ইকরার ফ্যামিলিতে এমন কেউ নাই যে, এসব নিয়ে লড়বে। ওর কোনো ভাই-বোনও নাই।’
২০১০ সালে যাহের আলভী ও ইকরা যখন বিয়ে করেন। তাদের রয়েছে একটি সন্তান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকরা ছিলেন দর্শনের ছাত্রী ও বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ফাঁস হওয়া বহু স্ক্রিনশট জানাচ্ছে, সংসারজীবনে অসুখী হয়ে পড়েছিলেন ইকরা। আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এমআই/টিকে