‘মিনিটম্যান-৩’ / যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ কেন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো?
ছবি: সংগৃহীত
১১:০১ এএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই শক্তিশালী ‘মিনিটম্যান-৩’ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি পৃথিবীর যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম এবং একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠাতে পারে। স্থল বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এই পরীক্ষা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘মিনিটম্যান-৩’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ এবং বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়া নয়।’
উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েক হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালিন প্রবাল প্রাচীরের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
‘মিনিটম্যান-৩’ খ্যাতি পেয়েছে ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। এটি পৃথিবীর যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম এবং একাধিক পারমাণবিক ওয়্যারহেড আলাদা লক্ষ্যবস্তুর দিকে পাঠাতে পারে। স্থল বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে সতর্ক করল রাশিয়া
‘মিনিটম্যান-৩’ পরীক্ষার সময় নির্ভুলতা, আঘাতের ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতাসহ এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় যাচাই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
এই ধরনের পরীক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক। তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সময় হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গেল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে একযোগে ইরানে হামলা চালাচ্ছে, পাল্টা আঘাত করছে ইরানও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আরও জোরালো আক্রমণ করতে প্রস্তত যুক্তরাষ্ট্র।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মিনিটম্যান-৩’ পরীক্ষার এই সময় নির্বাচন ইরানকে সতর্ক করার সংকেত হিসেবেই নেয়া যেতে পারে। গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় থাকে।
টিজে/এসএন