সালমানের রানআউট নিয়ে বিতর্ক, মিরাজের পক্ষে রমিজ রাজা!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৮ পিএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিতের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, সফরকারীদের লক্ষ্য এই ম্যাচ জিতে সিরিজে টিকে থাকা। সেই লক্ষ্যে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান তোলে। আরও বড় সংগ্রহের পথেই ছিল তারা, তবে মাঝে মোমেন্টাম বদলে যায় সালমান আগাকে করা মেহেদী মিরাজের এক রানআউটে। যা নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে ব্রেকথ্রু পাওয়ার আশায় ছিল। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে সেই মুহূর্তটি আসে। বল করছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ।
এটা ছিল তার করা দশম ওভার। প্রথম তিন বলে মাত্র এক রান দেন তিনি। চতুর্থ বলটি করলে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বলটি আসছিল সোজা মিরাজের দিকেই। তবে রান নিতে এগিয়ে যাওয়া সালমান আগা চেয়েছিলেন মাটিতে থাকা বলটি মিরাজকে এগিয়ে দিতে। কিন্তু সালমানকে সেই সুযোগ দেননি মিরাজ। দ্রুত বলটি কুড়িয়ে তিনি স্টাম্প ভাঙেন।
মিরাজের এই রানআউট করা দেখে যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না সালমানের। তখনও তিনি পপিং ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে। রাগে-ক্ষোভে গ্লাভস-হেলমেট খুলে মাটিতে ছুড়ে মারেন তিনি। এরপর রিপ্লে দেখে সালমানকে আউটের সিদ্ধান্ত জানান থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। এক মিনিটেরও কম সময় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানি তারকা। মেজাজ হারান লিটন দাসও, তাকে থামাতে এগিয়ে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। সাইডলাইনে গিয়েও সালমানকে বেশ রাগান্বিত দেখা যায়। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬৪ রান এবং রিজওয়ানের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়েন।
সালমান আউট হওয়ার পরপরই ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। একই ওভারে রিজওয়ান ফেরেন ৪৪ রান করে। তবে এখনও আলোচনার কেন্দ্রে সালমানকে করা মিরাজের সেই রানআউট। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। তার যুক্তি মিরাজের পক্ষেই গিয়েছে। যেখানে তিনি সালমানকে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মিরাজকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা রানআউটের চেষ্টায় মরিয়া বলে উল্লেখ করেন।

ইনিংসের বিরতিতে রমিজ রাজা বলেন, ‘আমি ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে বিষয়টি দেখছি। আজকের ম্যাচটি কিছুটা ভিন্ন ধারায় চলছে, মুহুর্ত ধরে ধরে সুযোগ খুঁজছে দলগুলো! এটি স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের বাইরের বিষয়। কিন্তু এখানে তিনি (মিরাজ) অবশ্যই রানআউট করার অধিকার রাখেন।
বিপরীতে তার (সালমান আগা) মনোযোগ ছিল ভালো কিছু করার। আপনি কখনোই প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন (বল এগিয়ে দেওয়া) কিছু করতে পারেন না। এরপর আগার প্রতিক্রিয়াও স্পষ্ট (যে তিনি কী করতে চেয়েছেন)।’
তবে বাংলাদেশ সুন্দরভাবে বিষয়টি সামলাতে পারত বলেও মনে করেন সাবেক এই পাকিস্তানি তারকা, ‘একজন ক্রিকেটার এখানে রানআউটের চেষ্টা করছিলেন, আরেক চেয়েছিলেন বন্ধুত্বপূর্ণ হতে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে এমন বন্ধুত্বসুলভ আচরণের জায়গা নেই। তবে আমি বাংলাদেশকে ১০০- এর ভেতর ১০ দেবো, তারা আরেকটু ভালোভাবে বিষয়টা সামলাতে পারত।’ পাকিস্তান তাদের নির্ধারিত সংগ্রহের চেয়ে ২০-৩০ রান কম করেছে বলেও মনে করেন রাজা, ‘এটি চেজ করার মতো রান, ব্যাটিং-বান্ধব পিচ। বেশ ভালোভাবে বল ব্যাটে আসছে।’
অন্যদিকে, সালমান আগার রানআউট ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন আরেক সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। তিনি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী মিরাজের এই আচরণ দুর্বল স্পোর্টসম্যানশিপ।’
এসকে/টিকে