© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ

শেয়ার করুন:
পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ২৪ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩২ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। সূচক বাড়লেও গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১২ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৯ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৪টির, কমেছে ৩৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির।

আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে গত ছয় বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন হয়। ফলে শেয়ারের দাম আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে আসে। এই সুযোগে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা পুনরায় শেয়ার কিনতে আগ্রহী হন। এছাড়া চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সূচকে ঊর্ধ্বমুখীতা দেখা গেছে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ২৮, জীবন বিমা খাতে ৪ দশমিক ৬৫, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৮ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৮২৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৬১ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১০৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন