মোস্তাফিজের বদলি হিসেবে কলকাতায় যোগ দেয়া মুজারাবানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পিসিবি
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৩ এএম | ১৫ মার্চ, ২০২৬
দিনকয়েক আগে পর্দা নামা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) জন্য এই জিম্বাবুইয়ান পেসারকে দলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে মুজারাবানিকে দলে ভেড়াল জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। এর পর ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় মৌসুম শুরুর আগেই মোস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিতে।
মোস্তাফিজের বিদায়ের পর কলকাতা একজন ফাস্ট বোলার খুঁজছিল। শেষ পর্যন্ত সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে চলে আসেন মুজারাবানি।
কেকেআরের প্রস্তাব গ্রহণ করার আগে মুজারাবানি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। আসন্ন মৌসুমের জন্য ইসলামাবাদ ইউনাইটেড তাকে ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দলে নিয়েছিল। ক্যারিবীয় পেসার শামার জোসেফের বদলি হিসেবে তাকে সই করিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
তবে বিষয়টি এখন বিতর্কে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইপিএলে যোগ দিতে পিএসএল ছেড়ে দেওয়ার কারণে মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
পিএসএলের চুক্তি অনুযায়ী, মুজারাবানির ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে করা চুক্তি পালন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। আইপিএলের জন্য লিগটি এড়িয়ে গেলে সেটিকে চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে ধরা হতে পারে, যার ফলে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে পিসিবি। তবে জানা গেছে, মুজারাবানি আইপিএলে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে আগেই জানিয়েছিলেন।

এর আগে মুজারাবানি পিএসএলে মুলতান সুলতানস এবং করাচি কিংসের হয়ে খেলেছেন। ওই লিগে ১৫ ম্যাচে তিনি ২১টি উইকেট নিয়েছিলেন। আসন্ন মৌসুমে আবার পিএসএলে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইপিএলকেই অগ্রাধিকার দেন তিনি।
মুজারাবানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক ভক্ত ও ক্রিকেটপ্রেমী পিসিবিকে ট্রল করে বলেন, আইপিএলের মতো বেশি অর্থ, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক লিগ ছেড়ে কেউ পিএসএলকে অগ্রাধিকার দেবে না।
অনেকে আবার মজা করে পিসিবিকে 'রিটায়ারমেন্ট লিগের প্রহরী' বলেও মন্তব্য করেন এবং বলেন, খেলোয়াড়দের কাছে এই ধরনের আইনি হুমকি এখন আর তেমন গুরুত্ব বহন করে না।
উল্লেখ্য, মুজারাবানি গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল জয়ী স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। আর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন। সেখানে তার গড় ছিল ১৪.৪৬ এবং ইকোনমি রেট ৭.৮৮।
সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৩৭ ম্যাচে মুজারাবানি ১৫৫টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার গড় ২২.৭৬ এবং ইকোনমি রেট ৭.৩৫।
টিজে/টিএ