ইরানে হামলা করায় যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার টেররিজম প্রধানের পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৪ পিএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি আজ থেকেই ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলমান ইরান যুদ্ধকে আমি বিবেকের দিক থেকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না এবং স্পষ্ট যে, আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপে।
‘আমি সেই মূল্যবোধ ও পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক, যেগুলো আপনি ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের প্রচারণায় তুলে ধরেছিলেন এবং প্রথম মেয়াদে বাস্তবায়ন করেছিলেন। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আপনি বুঝতেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো এক ধরনের ফাঁদ, যা আমাদের দেশের দেশপ্রেমিকদের অমূল্য জীবন কেড়ে নেয় এবং আমাদের সম্পদ ও সমৃদ্ধিকে ক্ষয় করে।’
তিনি লেখেন, ‘আপনার প্রথম প্রশাসনে আপনি আধুনিক কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালোভাবে বুঝেছিলেন কীভাবে দৃঢ়ভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, কিন্তু অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েও। আপনি তা প্রমাণ করেছেন কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে এবং আইএসআইএসকে পরাজিত করার মাধ্যমে।
‘এই প্রশাসনের শুরুর দিকে, ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং মার্কিন মিডিয়ার প্রভাবশালী অংশ একটি ভ্রান্ত তথ্য প্রচারণা চালায়, যা আপনার আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে দুর্বল করে এবং যুদ্ধপন্থী মনোভাব তৈরি করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রতিধ্বনি-চক্র ব্যবহার করা হয়েছিল আপনাকে বিশ্বাস করানোর জন্য যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি, এবং এখন আঘাত হানলে দ্রুত বিজয়ের একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে। এটি একটি মিথ্যা—এবং একই কৌশল ব্যবহার করে আমাদেরকে ইরাকের ভয়াবহ যুদ্ধে টেনে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে আমাদের হাজারো সেরা সৈনিকের জীবন হারাতে হয়েছে। আমরা আর সেই ভুল করতে পারি না।
‘একজন সৈনিক হিসেবে, যিনি ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং একজন গোল্ড স্টার স্বামী হিসেবে, যিনি তার প্রিয় স্ত্রী শ্যাননকে এমন এক যুদ্ধে হারিয়েছেন যা ইসরায়েলের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল—আমি এমন একটি যুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে পাঠানোর সমর্থন করতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো উপকারে আসে না এবং যার জন্য জীবন দেওয়ার কোনো ন্যায্যতা নেই।’
সবশেষে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, আপনি যেন ইরানে আমরা কী করছি এবং কার জন্য করছি; সেটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। এখনই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। আপনি চাইলে এই পথ পরিবর্তন করে আমাদের জাতির জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, অথবা আমাদের আরো অবনতির ও বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দিতে পারেন। সিদ্ধান্ত আপনার হাতেই।
আপনার প্রশাসনে কাজ করা এবং আমাদের মহান জাতির সেবা করা আমার জন্য গর্বের বিষয় ছিল।’
এসএন