কারাগারে ঈদ জামাতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা, রাজসাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেননি কেউ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪১ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
সারা দেশের কারাগারগুলোতে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে শরিক হয়েছেন হাজতি আসামি ও বন্দিরা। রাজধানীর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাতে অংশ নেন সেখানে বন্দি থাকা আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রী, এমপি ও আমলারা। এ সময় তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। তবে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সবাই এড়িয়ে যান। সাবেক মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের কেউ তার সঙ্গে কোলাকুলি করেননি।
শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্র দেশের একটি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে সকাল সাড়ে ৮টায় কারা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তায় একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি থাকা প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলাসহ অনেকে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি সেই ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেন রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও।
জামাত শেষে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলারা নিজেরা এবং অন্য বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। এ সময় রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ছিলেন। তার আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ছিল। সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ তার সঙ্গে কথা বলা বা কোলাকুলি করার চেষ্টা করেননি। তাদের মধ্যে তেমন কোনো আগ্রহও দেখা যায়নি।
কারাগারে বিশেষ খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার (কেরানীগঞ্জ) ফারুক আহমেদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সকল বন্দী ও স্টাফরা অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, সকালে নির্ধারিত সময়ে বন্দিদের ঈদ উপলক্ষ্যে মুড়ি ও পায়েস পরিবেশন করা হয়। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। বন্দিরা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পুরো নিরাপত্তার মধ্যে তাদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করছেন। পরে তাদের ঈদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
ঈদের দিন দুপুরে বন্দীদের যে সকল বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে সেগুলো হল- পোলাও, গরুর রেজালা (বিকল্প খাসির মাংস), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাত, পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৩ কারাগারে বন্দি রয়েছে হাজতি-কয়েদি মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন এবং পরবর্তী আরও দুইদিন- মোট তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন স্বজনদের রান্না করে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন বন্দীরা। এছাড়া বন্দিরা মোবাইল ফোনে তিন মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে ফ্রি কথা বলতে পারবেন।
পিআর/এসএন