লিভিংস্টোনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৭ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
ইংল্যান্ড দলে লিয়াম লিভিংস্টোনের ভবিষ্যৎ- একটা সময় মনে হচ্ছিল সবকিছু প্রায় শেষের দিকে। দলে নেই, চুক্তি নেই, যোগাযোগও নেই বললেই চলে। এর মাঝেই হঠাৎ বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তিনি। আর সেখান থেকেই নতুন করে আলোচনায় এই অলরাউন্ডার। তবে তার অভিযোগের জবাবও দিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। তবে সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে এমনটা মানতে নারাজ ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। বরং উল্টোটা বলছেন দলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি।
একদম পরিষ্কার করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, লিভিংস্টোন এখনো ইংল্যান্ডের পরিকল্পনার বাইরে চলে যাননি। তার ভাষায়, "আমি ব্যক্তিগত কথাবার্তা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো একজন ক্রিকেটার নির্বাচনের বাইরে থাকবে এটা আমি কোনোভাবেই দেখি না।”

এই কথাতেই আসলে পুরো ছবিটা বোঝা যায়। দরজা বন্ধ হয়নি। কিন্তু সহজও না। লিভিংস্টোন শেষবার ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপর থেকেই দলে জায়গা নেই। মাঝখানে তার কেন্দ্রীয় চুক্তিও শেষ হয়ে গেছে। এই সময়টাতে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও অসন্তোষ ছিল তার।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দলে ফেরার ব্যাপারে ঠিকভাবে কথা হয়নি তার সঙ্গে। এমনকি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তাকে নাকি শুনতে হয়েছে বোর্ডের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। এই মন্তব্যটা একটু আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। ভেতরের অস্বস্তিটা তখন প্রকাশ্যে চলে আসে। তবে রব কি বলছেন, পুরো বিষয়টার আরেকটা দিকও আছে।
"এই ধরনের দায়িত্বে থাকলে সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব না। কেউ না কেউ অসন্তুষ্ট থাকবেই। এটা মেনে নিতেই হয়,” বলেছেন তিনি। শুধু কথার জবাবই দেননি, ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। জানালেন, শ্রীলঙ্কা সফরের দলে লিভিংস্টোনকে নেওয়ার বিষয়টা গুরুত্ব দিয়েই ভাবা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হয়নি, কিন্তু আলোচনায় ছিলেন।
"আমরা তাকে শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য ভেবেছিলাম। আমরা চাই, সে আবার নিজের সেরা ফর্মে ফিরুক। রান করুক। তাহলে অবশ্যই সে আবার দলে ফিরবে,” বলেছেন রব কি। এখানেই আসল ব্যাপারটা, এখন সবকিছু নির্ভর করছে পারফরম্যান্সের ওপর। ইংল্যান্ড যে তাকে একসময় কতটা গুরুত্ব দিয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজরে বিপক্ষে এক ওয়ানডে সিরিজে তাকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। তখন দলে সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে বড় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল তার কাঁধে।
"আমরা তাকে এতটাই বিশ্বাস করতাম যে একসময় অধিনায়কও করেছি। এখনো তার জন্য আমার অনেক সময় আছে। ৩২ বছর বয়সে কারও ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, আমি তা মনে করি না," বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে লিভিংস্টোনের অভিযোগও কম না। তার দাবি, ইংল্যান্ড দলের ভেতরের পরিবেশটা অনেকটা ভাগ হয়ে থাকা। "আপনি দলে থাকলে সব ঠিক, না থাকলে কেউ খোঁজও নেয় না," এমনটাই বলেছেন তিনি।
এই অভিযোগ সরাসরি মানতে চাননি কি। তবে এটাও ঠিক, সাম্প্রতিক সময়ে দলের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। বিশেষ করে অ্যাশেজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলীয় সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
সব মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি একটু অদ্ভুত। একদিকে হতাশ এক ক্রিকেটার, অন্যদিকে বোর্ডের ভিন্ন ব্যাখ্যা। মাঝখানে একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে সবকিছু, পারফরম্যান্স।
এরই মধ্যে নতুন মৌসুমের জন্য ভারত চলে গেছেন লিভিংস্টোন। আইপিএলে এবার নতুন দলে খেলবেন। বড় অঙ্কের টাকায় তাকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এখন দেখার বিষয় একটাই ব্যাট হাতে কি দেখাতে পারেন তিনি। কারণ, ইংল্যান্ডে ফেরার রাস্তা এখন একটাই। রান করতে হবে। নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে। তাহলেই আবার দরজা খুলবে। সহজ হিসাব। কিন্তু কাজটা মোটেও সহজ না।
আরআই/এসএন