আফগান সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াতে পারবেন আইরিশ ক্রিকেটাররা
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৯ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ মাঠে নামার সিদ্ধান্ত হলেও ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি আছে আইরিশদের। সেই অস্বস্তিকে চাপা না দিয়ে বরং খোলামেলাভাবে সামনে এনেছে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট। সবচেয়ে বড় কথা, খেলবেন কি খেলবেন না এই সিদ্ধান্তটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের হাতেই।
আগামী অগাস্টে নিজেদের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে আয়ারল্যান্ড। সূচি ঠিক। প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু এই সিরিজ ঘিরে আলোচনা থামছে না। কারণটা পরিষ্কার- নৈতিক প্রশ্ন।

এই সিরিজ আয়োজনের আগে আলাদা করে সভা করেছে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে আলোচনা। সেখানে নানা দিক উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত তারা সিরিজ আয়োজনের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সঙ্গে একটা বড় সিদ্ধান্তও নেয় কোনো ক্রিকেটার চাইলে এই সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াতে পারবেন।
আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স পরিচালক গ্রায়েম ওয়েস্ট বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন। তার ভাষায়, "আমার মনে হয়, সেটা করতেই হবে। ক্রিকেটারদের মতামত জানার জন্য আমরা পুরুষ ও নারী উভয় দলের সঙ্গেই কথা বলেছি।”
এই কথাতেই অনেক কিছু পরিষ্কার। বোর্ড শুধু নিজেরা সিদ্ধান্ত নেয়নি। খেলোয়াড়দের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, বিষয়টা শুধু ক্রিকেট নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় এক সামাজিক বাস্তবতা।
আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেট কার্যত বন্ধ। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পূর্ণ সদস্য হতে হলে ছেলে ও মেয়েদের দল- দুটোই থাকার শর্ত আছে। এই শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল আফগানিস্তান।
শুরুটাও হয়েছিল আশাব্যঞ্জকভাবে। ধীরে ধীরে নারী ক্রিকেট এগোচ্ছিল। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ২৫ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হয়। এমনকি ওমানে সফরের পরিকল্পনাও ছিল।
কিন্তু সবকিছু বদলে যায় খুব দ্রুত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসে। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। অনেক ক্ষেত্রে বাইরে বের হওয়াও কঠিন। প্রকাশ্যে কথা বলা নিয়েও বিধিনিষেধ। সেই বাস্তবতায় ক্রিকেট খেলা তো অনেক দূরের ব্যাপার। এই পরিস্থিতির কারণেই অনেক দেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া নৈতিক অবস্থান থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘরের মাঠে সিরিজ বাতিল করেছে। ইংল্যান্ডও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না আফগানদের সঙ্গে।
এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আয়ারল্যান্ডের সিদ্ধান্তটা মাঝামাঝি এক অবস্থান। তারা সিরিজ খেলবে। কিন্তু কাউকে বাধ্য করবে না। খেলোয়াড় চাইলে নিজে থেকেই সরে দাঁড়াতে পারবেন।
গ্রায়েম ওয়েস্ট আরও বলেছেন, "প্রত্যাশিতভাবেই কিছু উদ্বেগ রয়েছে। তবে আমরা যখন বোর্ডের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনা করেছি এবং সব দিক বিবেচনা করেছি, তখন একটি পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।"
এই 'পারস্পরিক বোঝাপড়া'টাই এখন মূল কথা। একদিকে আন্তর্জাতিক সূচি, প্রতিযোগিতা আর পয়েন্টের হিসাব। অন্যদিকে নৈতিক প্রশ্ন, মূল্যবোধ আর ব্যক্তিগত অবস্থান। দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত সহজ নয়।
ক্রিকেটারদের জন্যও এটা কঠিন সময়। কেউ হয়তো খেলতে চাইবেন, দেশের হয়ে পারফর্ম করতে চাইবেন। আবার কেউ হয়তো নৈতিক অবস্থানকে প্রাধান্য দেবেন। বোর্ড সেই স্বাধীনতাটাই নিশ্চিত করেছে।
আরআই/এসএন