পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের ২ কর্মকর্তাকে ‘হিটলিস্ট’ থেকে সরাল ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ পিএম | ২৬ মার্চ, ২০২৬
পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ-কে হিটলিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে ইসরায়েল। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে রয়টার্সকে বলেছেন, “ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের যেসব কর্মকর্তার নাম হিটলিস্টে রেখেছিল ইসরায়েল, তাদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং বাঘের ঘালিবাফের নামও ছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ইসরায়েলিদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এই দু’জনকে হত্যা করা হলে সংলাপের জন্য আর কেউ ইরানে অবশিষ্ট থাকবে না। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দু’জনের নাম হিটলিস্ট থেকে সরিয়েছে ইসরায়েল।”
এমন এক সময়ে এই সংবাদটি প্রকাশিত হলো, যখন পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকরী হিসেবে কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।
সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।
যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে ১৫টি পয়েন্ট বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মুখ্য ভূমিকায় আছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেনাপ্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন ফিল্ড মার্শাল মুনির এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছেন শেহবাজ শরিফ।
টিকে/