আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলা / ফয়সাল-আলমগীর ১১ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৬ পিএম | ২৬ মার্চ, ২০২৬
বহুল আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে এবার ১১ দিনের রিমান্ড নিয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সি -এনআইএ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিল্লির পাতিয়ালা হাউসে এনআইএর স্পেশাল আদালতে তোলা হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংস্থাটি দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে চায়। তারপরেই বিচারক এ রায় দেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৩ মার্চ দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ।
এদিকে ২ এপ্রিল তাদের কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করার কথা ছিল। সূত্রে জানা যায়, সম্ভবত তাদের দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি কলকাতার আদালতে হাজির করা হতে পারে।
গত ২২ মার্চ জাতীয় এনআই-র পক্ষ থেকে কলকাতার বিধাননগর আদালতে দুই অভিযুক্তকে জেরা করার আবেদন জানানো হয়। বিচারক প্রথমে এতে সম্মতি দেন।
তবে ২৩ মার্চ সকালে এনআইএ ফের নতুন পিটিশন জমা দিয়ে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা নিয়ে তারা আশঙ্কায় রয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না। এরপর বিচারক অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।
২২ মার্চ বিধাননগর আদালতের বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। তাদের সেদিনই দমদম সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।
সেখান থেকেই ২৩ মার্চ দিল্লি নিয়ে যায় এনআইএ।
দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট-এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা হয়েছে। এ ধারাগুলো অনুযায়ী অভিযোগ: সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা
সহায়তা বা প্ররোচনার চেষ্টা। এ ধরনের অপরাধে শাস্তি হিসেবে কমপক্ষে ৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে এ মামলা কেন দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ তাহলে কী ভারতে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল দুই অভিযুক্ত? যে কারণে এনআইএ কলকাতা থেকে দিল্লি নিয়ে গেছে? সাধারণত এ ধরনের ঘটনায়, এর আগে ভারতের আদালত ফোরটিন ফরেনার্স অ্যাক্ট অর্থাৎ অবৈধ অনুপ্রবেশ এর মামলা দিয়ে থাকে।
কিন্তু এ দুই অভিযুক্তের ক্ষেত্রে সে মামলা দেওয়া হয়নি।
তবে গত রোববার আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফয়সাল দাবি করে, সে হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সিসিটিভিতে গুলি করার কোনো প্রমাণ নেই। তার আরও দাবি ছিল, ঘটনার সময় সে বাংলাদেশে ছিল। যদিও সে স্বীকার করেছে যে সিসিটিভিতে তাকে দেখা গেছে, তবে গুলি করার দৃশ্য নেই। কেন সে ভারতে এসেছিল, সে বিষয়ে সে কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি।
গত ৭ মার্চ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। পরদিন ৮ মার্চ স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড। ২২ মার্চ রিমান্ড শেষে বিধাননগর আদালতে নেওয়া হয়। পরদিন এনআইএর আবেদনে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আর ২৬ মার্চ দিল্লিতে আদালতে আনা হলে, এনআইএ ১১ দিনের রিমান্ডে নেয়।
অপরদিকে এ মামলায় অন্য অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমা-কেও ১৪ দিনের জেলহেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাকে ৩ এপ্রিল ফের আদালতে হাজির করা হবে।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওসমান হাদি হত্যা মামলায় জড়িত তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে। ফলে আপাতত তাদের দ্রুত দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এসএন