মজুদ ফুরাচ্ছে, উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৭ এএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে জটিলতার প্রভাবে দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান না এলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উৎপাদন। এতে সারা দেশে বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করে, যার অর্ধেকের বেশি আসে সৌদি আরব থেকে। বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি মাদার ভেসেল আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হওয়ায় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সেটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে না। এর ফলে ইআরএলে তেলের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে কম মজুদ আছে অকটেন ও পেট্রলের। অকটেনের মজুদ আছে মাত্র ৯ দিনের। পেট্রলের মজুদ আছে ১১ দিনের। ডিজেল ১৪ দিনের মজুদ থাকলেও আমদানির ধারা স্বাভাবিক থাকায় শঙ্কা কম।
পেট্রল ও অকটেনের বড় অংশই দেশীয় শোধনাগারে উৎপাদিত হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক পাম্পে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, পাম্পে গিয়ে চাহিদামতো অকটেন পাওয়াযাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) একটি সুখবর দিয়েছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর হয়ে এক লাখ টন তেলের একটি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘রাস তানুরা বন্দরে আটকে পড়া জাহাজটি থেকে তেল খালাস করে অন্য কোনো দেশের জাহাজের মাধ্যমে দেশে আনার চেষ্টা চলছে। আমরা সব ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করছি, যাতে দ্রুত বিকল্প উপায়ে তেল আনা নিশ্চিত করা যায়।’
বিপিসি জানিয়েছে, ফার্নেস অয়েল ২৯ দিন এবং জেট ফুয়েল ২৩ দিনের মজুদ থাকায় বিমান চলাচল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে আপাতত ঝুঁকি নেই। তবে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ থাকলে বিকল্প পথে তেল আনতে বাড়তি জাহাজভাড়া গুনতে হবে, যা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
গত ২২ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫টি জাহাজ থেকে তেল খালাস করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস চলছে এবং আরো দুটি জাহাজ পথে রয়েছে। তবে সবার নজর এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের চালানের দিকে।
টিজে/এসএন