© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নির্মাতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না: মারিয়া

শেয়ার করুন:
নির্মাতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না: মারিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫০ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
ছোট পর্দায় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার পর এবার বড় পর্দায় নতুন পরিচয়ে হাজির হয়েছেন মারিয়া শান্ত। এবারের ঈদে ‘প্রেশার কুকার’ এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক, আর একই সময়ে ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া নাটক ‘বোবা কান্না’ তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দুই মাধ্যমেই একসঙ্গে উপস্থিতি তাঁকে এই সময়ের তরুণ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে।

প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে মারিয়া বলেন, অনুভূতিটা তাঁর কাছে একেবারেই নতুন। প্রথম কাজ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অস্বস্তি ছিল, তবে দর্শকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে স্বস্তি দিয়েছে। বিশেষ করে হলে বসে নিজের অভিনয় দেখার সময় দর্শকদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা। ট্রেলার দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, সিনেমায় হয়তো তাঁকে অল্প সময়ের জন্য দেখা যাবে, কিন্তু পুরো চলচ্চিত্র দেখার পর সেই ধারণা বদলেছে বলেই মনে করছেন তিনি।



চলচ্চিত্রে আসার গল্পটিও তাঁর কাছে অনেকটা আকস্মিক। তিনি জানান, বড় পর্দার অভিনেত্রী হওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। হঠাৎ করেই পরিচালক রায়হান রাফির কাছ থেকে কাজের প্রস্তাব আসে। প্রিয় নির্মাতার কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর না বলার সুযোগ ছিল না। গল্প ও চরিত্র দুটিই তাঁকে আকৃষ্ট করে, আর সেখান থেকেই বড় পর্দায় কাজ করার সিদ্ধান্ত।

সিনেমায় তাঁর চরিত্র অনন্যা ইতিমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে। কৈশোরের আবেগ, দ্বন্দ্ব আর নিজস্ব অবস্থান সব মিলিয়ে চরিত্রটিকে তিনি চ্যালেঞ্জিং বলেই মনে করেন। বাস্তব জীবনের সঙ্গে চরিত্রের মিল না থাকলেও অভিনয়ের ভেতর দিয়ে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছেন।

ঈদের সময়েই মুক্তি পাওয়া ‘বোবা কান্না’ নাটক নিয়েও আশাবাদী মারিয়া। তাঁর ভাষায়, এটি গভীর আবেগনির্ভর গল্প, যেখানে অনেক অনুভূতি শব্দ ছাড়াই প্রকাশ পেয়েছে। নির্মাতা সুব্রত সঞ্জিত কাজটি যত্ন নিয়ে নির্মাণ করেছেন, আর সহশিল্পীদের সঙ্গে পর্দার রসায়নও দর্শকের ভালো লেগেছে। প্রকাশের এক দিনের মধ্যেই নাটকটি বিপুল দর্শকসংখ্যা পায়।

কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি এখন আর তাড়াহুড়া করতে চান না। তাঁর বিশ্বাস, বেশি কাজ নয়, ভালো কাজই শেষ পর্যন্ত একজন শিল্পীকে আলাদা পরিচয় দেয়। তাই সংখ্যা কমিয়ে গল্প ও চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মারিয়া বলেন, দুই মাধ্যমে কাজের ধরন ভিন্ন। চলচ্চিত্রে প্রতিটি দৃশ্যের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়, অভিব্যক্তি নিয়েও দীর্ঘ সময় ভাবতে হয়। তবে ছোট পর্দার অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেকটাই প্রস্তুত করেছে।

অভিনয়ের অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন মনিকা বেলুচ্চির নাম। দেশের মধ্যে তাঁর ভালো লাগে জয়া আহসান এর অভিনয়। তবে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তিনি পান দর্শকের প্রশংসা থেকে।

নির্দিষ্ট কোনো জুটিতে এখনই নিজেকে আটকে রাখতে চান না মারিয়া। তাঁর মতে, শুরুতেই নির্দিষ্ট জুটিতে কাজ করলে শেখার পরিধি ছোট হয়ে যায়। বরং ভিন্ন ভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে নিজেকে গড়ে তুলতেই আগ্রহী তিনি।

জনপ্রিয়তার চেয়ে অভিনয়ের জন্য পরিচিত হতে চান এই লক্ষ্যই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে স্পষ্ট। ভবিষ্যতে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্নও লালন করছেন তিনি।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন