© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ-এর নামে প্রজাপতির নামকরণ!

শেয়ার করুন:
প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ-এর নামে প্রজাপতির নামকরণ!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪০ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ-এর স্মৃতি যেন নতুন করে রঙ ছড়াল প্রকৃতির ডানায়। মৃত্যুর কয়েক মাস পর আবারও আলোচনায় উঠে এলেন এই জনপ্রিয় শিল্পী, তবে এবার কোনও গান বা মঞ্চ নয়, বরং এক বিরল প্রজাতির প্রজাপতির মাধ্যমে তাঁকে জানানো হল অনন্য সম্মান।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন জুবিন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে তখন নানা জল্পনা তৈরি হলেও পরবর্তীতে সেখানকার আদালতের রায়ে পরিষ্কার হয়, সমুদ্রে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে ভক্তদের মনে যে শোক আর প্রশ্নের ঘনঘটা ছিল, তা কিছুটা হলেও স্তিমিত হয়।

তবে সময়ের ব্যবধানে শিল্পীর স্মৃতি মুছে যায়নি, বরং আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অরুণাচল প্রদেশের ঘন অরণ্যে সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে এক নতুন প্রজাতির প্রজাপতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘ইউথালিয়া জুবিনগর্গি’। গবেষকদের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্যের নতুন অধ্যায় যুক্ত হল, তেমনি অন্যদিকে সম্মান জানানো হল একজন প্রভাবশালী শিল্পীকে।



এই প্রজাপতিটির ডানায় রয়েছে বাদামি রঙের উপর সাদা নকশা এবং হালকা উজ্জ্বল আভা, যা তাকে অন্য প্রজাতির থেকে আলাদা করে তোলে। গবেষকদের মতে, এই নামকরণ শুধু একজন শিল্পীকে স্মরণ করা নয়, বরং পাহাড়ি অঞ্চলের সমৃদ্ধ প্রকৃতি ও তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার দিকেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

এর আগেও অসম সরকার বিভিন্নভাবে জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। মানস জাতীয় উদ্যানে একটি নতুন গাছের নামকরণ তাঁর নামে করা হয়েছিল। পাশাপাশি কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে সদ্যোজাত এক হাতিশাবকের নামও রাখা হয় তাঁর গানের অনুপ্রেরণায়। এসব উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে, শিল্পীর প্রভাব শুধু সংগীতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে সমাজ ও সংস্কৃতির নানা স্তরে।

সব মিলিয়ে, একজন শিল্পীর স্মৃতি কীভাবে মানুষের হৃদয় ছাড়িয়ে প্রকৃতির অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে, তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই নামকরণ। জুবিন গর্গের সুর হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু তাঁর নাম এখন বেঁচে থাকবে প্রকৃতির রঙিন ডানায়, সময়ের সীমানা পেরিয়ে।


পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন