© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাহুলের মৃত্যুতে তদন্তের দাবি সুদীপ্তা-রূপাঞ্জনার

শেয়ার করুন:
রাহুলের মৃত্যুতে তদন্তের দাবি সুদীপ্তা-রূপাঞ্জনার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪৩ এএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
তালসারির জলে নেমে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিভে গেল এক পরিচিত মুখ। যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেও শুটিং সেটে সংলাপ বলছিলেন, সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছিলেন, তিনিই এখন স্মৃতিতে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর শোকের সঙ্গে সঙ্গে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। শুটিং চলাকালে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল কি না, আর পুরো ঘটনার দায় কে নেবে এসব নিয়েই সরব হয়েছেন অভিনয়জগতের দুই পরিচিত মুখ সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও রূপাঞ্জনা মিত্র।

রবিবার ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র দৃশ্যধারণ চলছিল তালসারিতে। জানা গেছে, একটি দৃশ্যের প্রয়োজনে জলে নামেন তেতাল্লিশ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সেই সময় আচমকাই জোয়ারের টান বাড়তে শুরু করে। উপস্থিত কর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে জলডুবেই মৃত্যুর কথা বলা হলেও ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এই মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে প্রথমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন রূপাঞ্জনা মিত্র। তিনি লিখেছেন, কোনো নিরাপত্তা ছাড়া কীভাবে শুটিং চলতে পারে, সেই দায় শিল্পমহলকে নিতেই হবে। তাঁর বক্তব্য, শিল্পীদের জন্য কাজের পরিবেশ নিরাপদ না হলে এমন ঘটনা আরও ভয়াবহ বার্তা দেয়। দীর্ঘদিন ধরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু শিল্পী কাজ করছেন, কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে যে শৈথিল্য রয়েছে, সেটি আর চাপা দেওয়া যাবে না।

একই সুর শোনা গেছে সুদীপ্তা চক্রবর্তীর বক্তব্যেও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি তুলেছেন, শুটিং স্পটে ঘটে যাওয়া এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তাঁর মতে, কেবল শোকপ্রকাশে দায় শেষ হতে পারে না, কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল তার নির্ভুল উত্তরও প্রয়োজন।



এদিকে পুলিশ ইতিমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে তমলুক হাসপাতালে। সোমবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

রাহুল অরুণোদয়ের চলে যাওয়া বাংলা অভিনয়জগতে গভীর শূন্যতা তৈরি করল। বড়পর্দা, ছোটপর্দা, নাট্যমঞ্চ সব জায়গাতেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি। দুই হাজার সালে ‘চাকা’ দিয়ে যাত্রা শুরু, পরে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ তাঁকে পৌঁছে দেয় দর্শকের ঘরে ঘরে। ‘আবার আসব ফিরে’, ‘জ্যাকপট’, ‘জুলফিকার’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ একাধিক কাজে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব চিন্তার ছাপ রেখেছেন।

অভিনয়ের বাইরে সাহিত্যচর্চা, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে মতপ্রকাশ সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক এক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিজীবনেও ছেলে সহজকে ঘিরে ছিল তাঁর আলাদা আবেগ।

পরিবারকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মধ্যেই হঠাৎ এই বিদায় মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী থেকে দর্শক কেউই।

পিআর/এসএন   


মন্তব্য করুন