চুরি হয়ে গেছে কিটক্যাটের ১২ টন চকলেট, গায়েব ট্রাকও
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৭ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
কিটক্যাট চকোলেটভর্তি একটি ট্রাক যেনো হঠাৎই ‘বিরতি’ নিয়েছে। ইস্টারের ঠিক আগে ‘নেসলের ক্রাঞ্চ কিটক্যাট’ বারের (চকোলেট) ১২ টনের একটি বিশাল চালান চুরি হয়ে গেছে।
কিটক্যাট রবিবার জানিয়েছে, তাদের ১২ টন চকোলেট বার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চালাতে তারা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।
এর ফলে দোকানে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিটক্যাটের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গ্রাহকদের জন্য সুখবর হলো, এই ঘটনার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই এবং পণ্যের সরবরাহেও কোনো প্রভাব পড়েনি।’
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ফুড কম্পানি নেসলের মালিকানাধীন কিটক্যাট জানিয়েছে, ইউরোপে পরিবহনের সময় তাদের নতুন চকোলেটের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি ইউনিট বহনকারী একটি ট্রাক চুরি হয়ে গেছে।
চুরি হওয়া চালানের মধ্যে ছিল কিটক্যাটের নতুন ফর্মুলা ওয়ান (এফ১) থিমের চকোলেট বার।
গত বছর ব্র্যান্ডটি এফ১-এর অফিসিয়াল চকোলেট পার্টনার হওয়ার পর বাজারে আসে নতুন ফর্মুলা ওয়ান (এফ১) থিমের চকোলেট বার। বারগুলো রেসিং কারের আকারে তৈরি, তবে এতে কিটক্যাটের পরিচিত ওয়েফার ও চকোলেটের ডিজাইন রাখা হয়েছে।
শনিবার এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কম্পানিটি জানায়, উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিতরণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে গত সপ্তাহে পুরো চালানটি উধাও হয়ে যায়। কিটক্যাটের বিখ্যাত স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে একজন মুখপাত্র মজা করে বলেন, ‘আমরা সব সময় মানুষকে কিটক্যাট খেয়ে একটু বিরতি নিতে বলি। কিন্তু মনে হচ্ছে চোরেরা বিষয়টিকে খুব আক্ষরিকভাবে নিয়েছে এবং আমাদের ১২ টনেরও বেশি চকোলেট নিয়ে পালিয়েছে।’
কম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটি মধ্য ইতালির একটি কারখানা থেকে পোল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল, তখনই এটি চুরি হয়। নেসলে আরো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ট্রাক বা ভেতরের চকোলেটের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে তদন্ত চলছে।
কম্পানি জানায়, ‘চোরদের স্বাদ অবশ্যই চমৎকার, কিন্তু বাস্তবতা হলো চুরি ক্রমেই বাড়ছে।
আরো জটিল কৌশল ব্যবহার করে এসব অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। তাই আমাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছি, যাতে মানুষ এই বাড়তে থাকা অপরাধ সম্পর্কে সচেতন হয়।’
নেসলে সতর্ক করে বলেছে, চুরি হওয়া চকোলেটগুলো অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রি হতে পারে। তবে প্রতিটি পণ্যের প্যাকেটে থাকা ব্যাচ কোডের মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা এবং পাইকাররা এই কোড স্ক্যান করে দেখতে পারবেন কোনো পণ্যটি চুরি হওয়া চালানের অংশ কি না। যদি সেটি চুরি হওয়া চালানের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে সিস্টেম নির্দেশনা দেবে কীভাবে কম্পানিকে জানাতে হবে এবং পরে তারা সেই তথ্য কর্তৃপক্ষকে দেবে।
কিটক্যাট আরো জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তদন্ত চালাচ্ছে। পাশাপাশি কম্পানিটি বলেছে, গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই এবং পণ্যের সরবরাহেও কোনো প্রভাব পড়েনি।
সূত্র : সিবিএস নিউজ
এমআর/এসএন