হরমুজ প্রণালীতে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২২ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রণকৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতেছে করেছে ইরান। সেই মাইন চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে হরমুজে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি গতকাল দেশটির সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ তথ্য। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় যুদ্ধজাহাজ জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই জাহাজেই এসব আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম বহন করে নিয়ে যাওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের দুই মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন জন হ্যালি।
যে জাহাজটিকে পাঠানোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটির নাম আএফএ লিমে বে’। এটির দৈর্ঘ ৫৮০ ফুট। আরএফএ লিমে বে’ অবশ্য রসদবাহী জাহাজ; অর্থাৎ এই জাহাজটি মূলত ব্রিটিশ নৌ ও সামরিক সেনাদের কাছে অস্ত্র, যুদ্ধের সরঞ্জাম ও সেনাদের বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এখন এটিকে আন্ডারওয়াটার ড্রোন বহন ও পরিচালনার উপযোগী করে সাজানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার কাজে যে ড্রোনগুলো ব্যবহার করা হবে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত স্বায়ত্বশাসিত ড্রোন। এসব ড্রোন তাদের বিশেষ শক্তিশালী সেন্সরের সাহায্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সমুদ্রতলে মাইন চিহ্নিত করা এবং সেগুলো ধ্বংসের জন্য বিশেষায়িত।
জন হ্যালি জানিয়েছেন, আরএফএ লিমে বে’-এর পাশাপাশি হরমুজ ও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানও পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এসবের কাজ হবে হরমুজে চলাচলরত বাণিজ্য জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান।
আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ সৌদি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ যতদিন চলবে- ততদিন এ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করছে- তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
গত এক মাসে হরমুজে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। ব্রিটেনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, গত এক মাসে হরমুজে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ।
এমআই/এসএন