৫ আগস্টের পর করা সব মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৩ এএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর সারা দেশে এ সংক্রান্ত যত মামলা হয়েছে, সেসব মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর সারা দেশে যত মামলা হয়েছে, সবগুলোর তথ্য চেয়েছেন। তার কাছে ইতিমধ্যে পাঁচ-সাত শ মামলার কপি গত সোমবার জমা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে সারা দেশের এসব মামলার কপি তার কাছে আসবে। এগুলো একটি টিম যাচাই-বাছাই করবে। সব মামলা তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশে যে মামলাগুলো হচ্ছে, যেগুলো আসলে ইন ফ্যাক্ট আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের আওতাধীন অপরাধ; সেখানে একেকটা মামলায় হয়তো ৪০০ থেকে ৫০০ আসামি হচ্ছে।
সব আসামি দোষী-এটা আমরা কিন্তু মনে করি না। আমরা মনে করি যে এর মধ্যে দোষী ব্যক্তি যেমন আছে, অনেক নিরপরাধ মানুষও আছে।…অনেক সময় যারা প্রকৃত দোষী, তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেক নিরাপরাধ মানুষ জেল খাটতেছে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা নজর রাখব যে, সারা দেশের যেসব থানায় মামলাগুলো হচ্ছে, সেখানে যাতে কোনো দোষী ব্যক্তি ছাড়া না পেয়ে যায়। কোনো নির্দোষ মানুষও যেন অহেতুক জেলে না যায়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো বিশেষ মহল মামলা বাণিজ্যের নামে যে ব্যবসা, এটা না করতে পারে। যদি কেউ হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করে, তাহলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।’ শত শত ক্রসফায়ারের ঘটনা আছে।
প্রতিটা ক্রসফায়ারের কাহিনি মোটামুটি একই রকম। তাহলে যত ক্রসফায়ার আগে হয়েছে, সব কটির বিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়া সম্ভব? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “একটি ‘কমন ডিজাইনে’ সারা বাংলাদেশে এই ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছে তৎকালীন সরকার। সেই সরকারের মতের সঙ্গে অমিল হলে বা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতের অমিল হলে তারা পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। পুলিশ আবার তাদের সহযোগী হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগীদের ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে মিথ্যা গল্প জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটা ক্রসফায়ারের একই রকম গল্প। এটা অবশ্যই সিস্টেমেটিক ক্রাইম (পরিকল্পিত অপরাধ) এবং একটি ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক (ব্যাপক মাত্রায় আক্রমণ)। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত অপরাধ।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে সারা দেশে যতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সবকটি মামলার কপি আমরা সংগ্রহ করছি। যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হবে। যাচাই-বাছাই করে ক্রসফায়ারের অপরাধগুলোর মধ্যে যেগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেসব মামলার বিচারের ব্যবস্থা ট্রাইব্যুনালে করা হবে।’
আরআই/এসএন