© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশের ৬ জাহাজ শিগগির হরমুজ পার হবে, আশা ইরানি রাষ্ট্রদূতের

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ৬ জাহাজ শিগগির হরমুজ পার হবে, আশা ইরানি রাষ্ট্রদূতের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৬ পিএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
যুদ্ধের মধ্য পারস্য উপসাগরে থাকা ছয় বাংলাদেশি জাহাজ ‘দ্রুত সময়ে’ হরমুজ প্রণালী পার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী।
বুধবার দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরফে জাহাজগুলো পার করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হলেও ‘স্পেসিফিকেশন’ না থাকায় সেগুলো চিহ্নিত করতে পারেনি তেহরান। এরপর গত সপ্তাহে পাওয়া তথ্য নিয়ে এখন জাহাজগুলো পার করার প্রক্রিয়া চলছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি আশা করি, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো সত্ত্বর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে এবং বাংলাদেশের জ্বালানির কোনো সংকট থাকলে সেটার সমাধান হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানি বাজার। জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই তেল ও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তীব্র বিমান হামলার মধ্যেও অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পারস্য উপসাগরের এই জলপথ অতিক্রম করতে দেয়নি তেহরান। কেবল ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজকে পার হতে দেওয়ার কথা বলছে তারা।

ইরান একাধিকার বলেছে, তাদের শত্রুপক্ষ ও শত্রুকে সহায়তা দেওয়া দেশের বাইরে অন্যরা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। হরমুজ প্রণালি পার হতে দেওয়ার তালিকায় বাংলাদেশ থাকার কথা কয়েকদিন আগে বলেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে পার করার প্রক্রিয়া তুলে ধরে এক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, “এ ছয়টা জাহাজের কথা আমাদেরকে জানানো হয়েছে। আমরা তেহরানকে এটা জানিয়েছি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এই জাহাজগুলোকে সহায়তা করার।

“কিন্তু এই জাহাজগুলোর যে স্পেসিফিকেশন, সেটা একদম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের হাতে না আসার কারণে আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি নাই।” তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ যে স্পেসিফিকেশন, জাহাজের যে নম্বর থাকে, সেই নম্বর এবং কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে, কোন রুটে আছে, সবগুলো আমরা চেয়েছিলাম, সেগুলো আমরা পেয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।”

জাহাজের বিস্তারিত তথ্য গত সপ্তাহে হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “এটা আমরা তেহরানে পাঠিয়েছি এবং কাজ চলছে। বাংলাদেশের এই জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নাই, এ ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

“বাংলাদেশের আমাদের বন্ধু, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাদের সাথে, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এ কথাটা বলেছেন, আপনারা দেখেছেন।” তিনি বলেন, “আমরা যতদিন আছি, আমরা এটা কোনো দিন হতে দেব না যে এই অঞ্চলে আমাদের মুসলিম ভাইদের বিন্দুমাত্র কষ্ট ভোগ করতে হয়।

“তারপরও যদি অনিচ্ছাকৃত কোনো অসুবিধা হয়ে যায়, তাহলে আমরা আশা করি, যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটা এই দেশের মানুষ বুঝবে।” জালিল রাহিমি জাহানাবাদী বলেন, বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন