নিজেদের শেষ করে দিলেন প্রযুক্তিকর্মী যুগল, নেপথ্যে এআই
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৪ এএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক তরুণ প্রযুক্তিকর্মী দম্পতির আত্মহত্যার দিনদুয়েক পর নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটই এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বানু চন্দ্র রেড্ডি গত সোমবার (৩০ মার্চ) নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আইবিএমে কর্মরত তার প্রযুক্তি পেশাজীবী স্ত্রী বিবি শাজিয়া সিরাজ ভবনের ১৭তম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর প্রায় এক বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রেড্ডি। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রযুক্তিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতি-নির্ভরতার ফলে চাকরিতে ছাঁটাইয়ের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তারই প্রভাবে রেড্ডি চাকরি হারান।
দীর্ঘ সময়ের এই বেকারত্বের কারণে আর্থিক সংকট ক্রমশ বাড়তে থাকে, যার ফলে রেড্ডির মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। এদিকে পারিবারিক সমর্থনের অভাবও তার পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
শাজিয়ার সঙ্গে তার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে পরিবার ভালোভাবে মেনে নেয়নি বলে জানা গেছে। তেলেঙ্গানায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী তার বাবা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন।
এই দম্পতির বাসা থেকে পুলিশ একটি নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে রেড্ডি তার আত্মহত্যার পেছনের কিছু কারণ উল্লেখ করে নিজের দায় স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তার স্ত্রীর ওপর কোনো দোষ না চাপানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, শাজিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে বেঙ্গালুরুতে আসেন। স্বামীর মরদেহ দেখার পরই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি