অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫২ এএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুল-কলেজগুলোতে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন বা ব্লেন্ডেড শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ বৃহস্পতিবার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এক দিন পর পর অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস চলবে, তবে অনলাইন ক্লাসের সময়ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো সশরীরেই সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করার কথা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে মিশ্র পদ্ধতির (অনলাইন ও সশরীর) বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণেই তারা এই মিশ্র পদ্ধতির কথা ভাবছেন।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে ছুটি ও বিভিন্ন আন্দোলন মিলিয়ে নির্ধারিত কিছু ক্লাস হয়নি। এ জন্য এখন স্কুলকে সপ্তাহে ছয় দিন করা হয়েছে (পরবর্তী ১০টি শনিবার)। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে ভাবছেন, অনলাইন ও সশরীর-এই মিশ্র পদ্ধতি করা যায় কি না।
এক জরিপের বরাতে মন্ত্রী জানান, প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশীজন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে পুরোপুরি অনলাইনে না গিয়ে এই ব্লেন্ডেড মডেলটি বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের এই সম্ভাব্য উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি একেএম আশরাফুল হক এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে সামনে ও-লেভেল, এ-লেভেল এবং সাধারণ স্কুলগুলোর সেশন ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় এই সময়ে সশরীর ক্লাস বন্ধ করাকে তারা আত্মঘাতী হিসেবে দেখছেন।
অভিভাবকদের মতে, করোনাকালীন অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে- স্কুলপর্যায়ে অনলাইন ক্লাস কার্যকর হয় না এবং এর ফলে পড়াশোনার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিভাইসের বাড়তি খরচ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং কর্মজীবী অভিভাবকদের পক্ষে সন্তানদের ক্লাস তদারকি করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিকল্প হিসেবে অভিভাবক ফোরাম থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা ৩+৩ মডেল বাতিল করে সপ্তাহে ৪ দিন সশরীরে ক্লাস চালু রেখে বাকি ৩ দিন স্কুল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে যাতায়াত ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ উভয়ই সাশ্রয় হয়। এছাড়া স্কুলের কার্যঘণ্টা কিছুটা কমিয়ে আনা, শ্রেণিকক্ষে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক আলো-বাতাস নিশ্চিত করার মাধ্যমেও সংকট মোকাবিলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না করে দ্রুত একটি যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রমজানের ছুটি ও অন্যান্য কারণে নষ্ট হওয়া সময় পুষিয়ে নিতে বর্তমানে শনিবারসহ সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চললেও বর্তমান সংকটে তাতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেএন/এসএন