© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:
তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:১৯ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট’ এর রিপোর্টে বলা হয়ে হয়েছে বাংলাদেশে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল-শেষ হয়ে যাওয়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি নির্ভর। ফলে বৈশ্বিক সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে দেশটির ওপর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেল ও পরিবহন চালকরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ কেউ খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং রাজধানীর সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও কমে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি রেশনিং চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনা এবং কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।

ঈদুল ফিতরের সময় কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ অপরিশোধিত তেলের মজুত খুব সীমিত। যা মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমছে বলে জানা গেছে। মার্চের শুরুর হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের মতো।

এ পরিস্থিতিতে নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন পরিস্থিতি নির্দেশ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন