তুলসি গ্যাবার্ডকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরানোর গুঞ্জন
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৮ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ডকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টাদের মতামত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক সাক্ষ্যে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হওয়ার পর থেকেই তার ওপর চাপ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তির বরাতে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রিসভার কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে গ্যাবার্ডকে প্রতিস্থাপন করা উচিত কি না। মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া এক সাবেক ডেপুটিকে আড়াল করায় গ্যাবার্ডের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
গত মাসে ক্যাপিটল হিলে বিশ্বব্যাপী হুমকি বিষয়ক এক শুনানিতে গ্যাবার্ডের সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। ওই শুনানিতে গ্যাবার্ড তার সাবেক ডেপুটি জো কেন্টের নিন্দা করতে অস্বীকার করেন। কেন্ট পদত্যাগ করার সময় যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘আসন্ন হুমকি’ নয়।
একটি সূত্রের বরাতে গার্ডিয়ান বলছে, কেন্টের এমন অবস্থান ট্রাম্পকে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ করেছিলো। কিন্তু তুলসি যেভাবে কেন্টকে সমর্থন দিয়েছেন এবং ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থানকে জোরালোভাবে সমর্থন করতে অনিচ্ছুক বলে মনে হয়েছে, তা ট্রাম্পকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে।
গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তুলসির প্রতি মিশ্র সমর্থন জানান। তিনি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই (আস্থা আছে)। মানে, তার চিন্তাভাবনা আমার থেকে কিছুটা আলাদা, কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেউ দায়িত্ব পালনের জন্য অনুপলব্ধ।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে তুলসির প্রতি প্রেসিডেন্টের আস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, ডিরেক্টর তুলসির অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
ট্রাম্প সরাসরি কাউকে বরখাস্ত করার চেয়ে অন্য পদে সরিয়ে দিতে বেশি পছন্দ করেন। সম্প্রতি ক্রিস্টি নোমকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তুলসির ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
তুলসি গ্যাবার্ডের মুখপাত্র অলিভিয়া কোলম্যান অবশ্য দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট তার ওপর অর্পণ করা দায়িত্বে খুশি এবং গ্যাবার্ড তার কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, গত জুন মাসে হিরোশিমা সফর নিয়ে গ্যাবার্ডের একটি ভিডিও বার্তা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তার দেওয়া তথ্যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদনের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি (গ্যাবার্ড) ভুল বলছেন। এই মতপার্থক্য এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্যাবার্ডের রেষারেষি তার অবস্থানকে আরও নড়বড়ে করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তার গোয়েন্দা প্রধানকে পদে রাখেন কি না।
আইকে/টিকে