© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের ৯৮টি হুবহু সংসদে উত্থাপন

শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের ৯৮টি হুবহু সংসদে উত্থাপন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৩ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সংশোধিত আকারে ও ১৬টি পরবর্তীতে যাচাই বাছাই এবং ৪টি এখনই বাতিল করার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এটি পেশ করেন ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন- মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, মাহবুব উদ্দিন, আব্দুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১৩ সদস্যর সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি পরপর তিনটি বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। প্রতিবেদনের সুপারিশে অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত আকারে পাস করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এবং ৪টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে। সে হিসেবে ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অধ্যাদেশগুলোর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না হলে এগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চিত।

অধ্যাদেশগুলো হচ্ছে- গণভোট অধ্যাদেশ- ২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ- ২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ- ২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ- ২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ- ২০২৫, মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ- ২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযাযী, তামাদির তালিকায় যাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টি অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ১৫টি বিলের উপর নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। 

প্রতিবেদনে ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ- ২০২৪, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ- ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ- ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬।
সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা অধ্যাদেশগুলো হচ্ছে- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন)- ২০২৫, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ- ২০২৫, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ- ২০২৫, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ- ২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫, ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যাবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৫, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ- ২০২৬, ভুমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণও কৃষি ভুমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ- ২০২৬, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন